সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না: সংসদে স্পিকার

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য শেষ করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বক্তব্যের সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হলে তিনি রসিকতার ছলে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৭ জুন) বাজেট অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার জানান, সংসদের হাতে সময় সীমিত। তাই সরকারি ও বিরোধী দলের হুইপরা যেসব সদস্যের জন্য যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময়ের বাইরে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বাজেটের ওপর আলোচনা দুই দিনব্যাপী চলবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যসূচি শুরু হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রত্যেক সদস্যকে বক্তব্য শেষ করতে হবে।
স্পিকার আরও বলেন, বক্তব্য শুরু করার সময় প্রত্যেক সদস্যকে বরাদ্দকৃত সময় জানিয়ে দেওয়া হবে এবং সেই সময় শেষ হওয়ার পর আর অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। এজন্য তিনি সদস্যদের বক্তব্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করে উপস্থাপনের আহ্বান জানান, যাতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অসমাপ্ত না থাকে।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজেট অধিবেশনের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই সংসদের লক্ষ্য।
বাজেট আলোচনার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রস্তাবটি উপস্থাপন করেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্পিকার বলেন, সবাই যদি পাঁচ মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করেন, তাহলে দ্রুত বাজেট আলোচনায় ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে।
পরে ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হলে বাজেট আলোচনায় প্রথম বক্তা হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে ছয় মিনিট সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্পিকার তাকে বক্তব্য সমাপ্ত করতে বলেন।
এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্য শেষের দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার সংক্ষেপে জানান, ‘সময় নাই।’
বিজ্ঞাপন
তবে তিনি পুনরায় সময়ের আবেদন করলে স্পিকার রসিকতা করে বলেন, আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদি দোকানে লেখা থাকে বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না; সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ স্পিকারের এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে হাস্যরসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার পরামর্শ দেন, ঘড়ির দিকে নজর রেখে বক্তব্য উপস্থাপন করতে এবং সময় শেষ হওয়ার অন্তত এক মিনিট আগে বক্তব্য শেষ করার চেষ্টা করতে, যাতে বক্তব্য সুষ্ঠুভাবে সমাপ্ত করা যায়।
বিজ্ঞাপন
চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও অতিরিক্ত সময়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করলে স্পিকার তাকে একই বার্তা দিয়ে বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’
সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের এই কঠোর অবস্থানকে বাজেট আলোচনায় সময় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।








