Logo

জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে শীর্ষস্থান ফেরাতে চায় সরকার: শিল্পমন্ত্রী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৪৬
জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে শীর্ষস্থান ফেরাতে চায় সরকার: শিল্পমন্ত্রী
শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবুল মুক্তাদির | ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পরিবেশবান্ধব বা ‘গ্রিন’ শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা এবং উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবুল মুক্তাদির।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত পিএইচপি শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, কয়েক বছর আগেও বিশ্বে পুনর্ব্যবহারের জন্য পাঠানো প্রায় ৪৫ শতাংশ জাহাজ বাংলাদেশেই রিসাইক্লিং করা হতো। সে সময় এই শিল্পে দেশের অবস্থান ছিল বিশ্বে শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান হারালেও সরকার আবারও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বাজারে এক নম্বর স্থানে নিয়ে যেতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, একসময় পরিবেশদূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের কারণে দেশের জাহাজভাঙা শিল্প নানা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এ খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে জাহাজ পুনর্ব্যবহারের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

খন্দকার আবুল মুক্তাদির বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের সব শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডকে ধাপে ধাপে গ্রিন সার্টিফিকেশনের আওতায় আনা। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

ইয়ার্ড পরিদর্শনের পর তিনি বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

জাহাজভাঙা শিল্পে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক জটিলতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে বাস্তব পরিস্থিতি জানতে এবং উদ্যোক্তাদের মতামত শুনতেই তিনি সীতাকুণ্ড সফর করেছেন। ব্যবসায়িক কিংবা নীতিগত কোনো সমস্যা থাকলে সরকার তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দেশের শিল্প খাতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট নিয়েও কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাসের ঘাটতির কারণে শুধু জাহাজভাঙা শিল্প নয়, প্রায় সব ধরনের শিল্পকারখানাই সমস্যার মুখে রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে এই সংকট কাটানো সম্ভব না হলেও সরকার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করছে।

মন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক জাহাজ রিসাইক্লিং খাতে কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার হংকং কনভেনশন ও বাসেল কনভেনশনসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর বিভিন্ন দিকও পর্যালোচনা করছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ শিপ রিসাইক্লিং বোর্ডের মহাপরিচালক এ কে এম শফিউল আলম তালুকদার, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, সহসভাপতি নুর উদ্দিন রুবেলসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD