দুর্যোগে পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের

টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলমান বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে তারা দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি জানান।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো শুধু রাজধানীর নয়, বরং দেশের সব কলেজের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, চলমান দুর্যোগের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা সমানভাবে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। তাই সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য দুর্যোগের প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। তাদের মতে, এখনো অনেক জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত রয়েছে এবং বহু পরীক্ষার্থী নিরাপদে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দ্বিতীয় দাবিতে তারা বলেন, বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যেসব পরীক্ষার্থী ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের মতে, দুর্যোগজনিত কারণে পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের দায়ী করা যায় না। তাই তারা যাতে শিক্ষাজীবনে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য আলাদাভাবে পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে শিক্ষার্থীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন। তাদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে হাজারো পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
বিজ্ঞাপন
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে হয়েছে। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমরসমান জলাবদ্ধতা, আবার কোথাও দীর্ঘ যানজটের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বাসা থেকে বের হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে হিমশিম খেয়েছেন। বন্যাকবলিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেশি ছিল বলেও তারা দাবি করেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী জুনায়েদ খান বলেন, আমরা পরীক্ষার বিরোধিতা করছি না। আমাদের দাবি, দুর্যোগের সময় দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়া হলে অনেক শিক্ষার্থী অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না কোনো পরীক্ষার্থী শুধু বন্যা, জলাবদ্ধতা বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ভবিষ্যতে পিছিয়ে পড়ুক। তাই দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পরীক্ষা নেওয়াই যৌক্তিক হবে।








