Logo

এআই ও পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে সম্মেলন, ঘোষণাপত্রে ড. ইউনূসের স্বাক্ষর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ জুলাই, ২০২৬, ১৮:২২
এআই ও পারমাণবিক ঝুঁকি নিয়ে সম্মেলন, ঘোষণাপত্রে ড. ইউনূসের স্বাক্ষর
ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে ভ্যাটিকান সিটিতে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলির যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ১৬ থেকে ১৮ জুলাই তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সমাপনী দিনে ‘Humanity at the Threshold’ শীর্ষক ঘোষণাপত্রে বিশ্বের বিভিন্ন নোবেলজয়ীর সঙ্গে তিনিও স্বাক্ষর করেন।

বিজ্ঞাপন

ঘোষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তির সমন্বয় মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করতে পারে। এতে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ব এমন এক নতুন এআই-নির্ভর অস্ত্র প্রতিযোগিতার দিকে এগোচ্ছে, যা বিদ্যমান পারমাণবিক প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিলে মানবসভ্যতা গুরুতর সংকটের মুখোমুখি হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় এআইয়ের বাড়তি ব্যবহার মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভূমিকা দুর্বল করে দিতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ঝুঁকি বৃদ্ধি, তথ্যযুদ্ধের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক আস্থার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট নোবেলজয়ীরা অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইতালির সাবেক প্রধানমন্ত্রী রোমানো প্রোদি, শান্তিতে নোবেলজয়ী জোডি উইলিয়ামস, সাংবাদিক মারিয়া রেসা, চিকিৎসক ডেনিস মুকওয়েগে এবং কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসসহ আরও অনেকে।

বিজ্ঞাপন

ভ্যাটিকানের কাস্তেল গানদোলফো এলাকায় অবস্থিত বর্গো লাউদাতো সি-তে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে তিনি “Artificial Intelligence, Democracy and the Economic Revolution: Toward a New World Order” শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নিয়ে এআই, গণতন্ত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

সম্মেলনের ফাঁকে তিনি সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার আর্চপ্রিস্ট ও ফ্যাব্রিক অব সেন্ট পিটারের সভাপতি কার্ডিনাল মাউরো গামবেত্তির সঙ্গে এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক ড. কু দংইউর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

যৌথ ঘোষণাপত্রে ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— এআই ও পারমাণবিক অস্ত্রকে কেন্দ্র করে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা রোধে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা, এআই প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং মানব তত্ত্বাবধান ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেকে উন্নত করতে সক্ষম এআই ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পারমাণবিক অবকাঠামোকে সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক চুক্তি প্রণয়ন, জাতিসংঘের অধীনে এআই তদারকির জন্য স্বাধীন বৈজ্ঞানিক প্যানেল ও নতুন বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান গঠন এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দায়িত্বশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে আরও আহ্বান জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়ায় বিশ্ব থেকে পারমাণবিক অস্ত্র সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। নোবেলজয়ীদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে মানবকল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বৈশ্বিক ঐক্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যৎ বিশ্বের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD