সাইফুজ্জামানের ফ্ল্যাটে অভিযানে ৩০০ কোট ৫শ টাইসহ যা পাওয়া গেল

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রী জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টি টাই, দামি ঘড়ির সংগ্রহ, মুক্তার গয়না ও বিভিন্ন আসবাবপত্র।
বিজ্ঞাপন
দুদকের তথ্যমতে, অভিযানে ফ্ল্যাট থেকে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, আটটি ঘড়ির বক্স—যার মধ্যে চারটি রোলেক্স ব্র্যান্ডের, তিন সেট মুক্তার গয়না, চারটি ঝাড়বাতি, একটি বেড, একটি সোফা এবং প্রায় ১০০টি কামিজ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া রোলেক্স ঘড়ির ক্রয়রসিদ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি ঘড়ির দাম ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের মধ্যে।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতের আদেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে মালামালের তালিকা তৈরির (ইনভেন্টরি) কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ না হওয়ায় তা আগামী দিনও চলবে।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়।
বিজ্ঞাপন
গত ২ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, আদালতের নির্দেশে গুলশানে সাইফুজ্জামানের দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালকের কাছে রিসিভার হিসেবে ন্যস্ত করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গুলশানের রোড-৬৬-এর প্লট নম্বর ১১-এ অবস্থিত এ-৭ (৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট) এবং বি-৭ (৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট) নম্বর ফ্ল্যাট দুটির দায়িত্ব আদালতের আদেশে দুদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান ও মালামালের তালিকা প্রস্তুতের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া ১৩ জানুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে তার মালিকানাধীন বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।








