Logo

প্রধানমন্ত্রীর হাতে জুলাইয়ের রক্তমাখা পতাকা তুলে দিলেন আহত আজিজুর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ২০:০৯
প্রধানমন্ত্রীর হাতে জুলাইয়ের রক্তমাখা পতাকা তুলে দিলেন আহত আজিজুর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনে গুরুতর আহত শেখ আজিজুর রহমান মাথার রক্তক্ষরণ ঠেকাতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকাই এবার প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়েছেন। মাথায় গুলির ক্ষত এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছত্রিশটি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন বহন করা এই তরুণের দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা ছিল নিজের সেই স্মৃতিবিজড়িত পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জুলাই আন্দোলনে আহত আজিজুর।

জুলাই আন্দোলনে আহত আজিজুর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের সংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি মাথায় রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ব্যবহার করা রক্তমাখা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

জানা গেছে, সম্প্রতি গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। পরে আজিজুরকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সচিবালয়ে নিয়ে আসা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী মনোযোগ দিয়ে আজিজুরের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনেন। আহত হওয়ার ঘটনা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন, অটোরিকশা চালিয়ে শিক্ষাজীবনের খরচ চালানোর বিষয় এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আজিজুরের জীবনসংগ্রামের কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীকে ব্যথিত করে।

সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শেখ আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন। এটিকে তিনি জীবনের স্মরণীয় একটি মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

আজিজুর বলেন, এই পতাকাটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।

বিজ্ঞাপন

আজিজুর রহমান মিরপুরের সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।

এত ত্যাগ ও অবদান থাকার পরও ছাত্রদল করার কারণে দীর্ঘ দুই বছরেও তিনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। সংসার ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্টিয়ারিং ধরতে হয়েছে। জীবনের দুটি বছর কেটেছে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ উড়ালসড়কে জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। মাথার গুলির ক্ষত থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে তিনি জাতীয় পতাকাটি মাথায় বেঁধেছিলেন। সেই পতাকা রক্তে ভিজে গেলেও তিনি রাজপথ ছেড়ে যাননি। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই তিনি মুক্তি পান।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD