Logo

গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ২০:০৯
গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ফাইল ছবি

দুই বছর আগে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতনের ঘটনাকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে অনন্য এবং সেই আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার পালিতব্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্ট স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য বিজয় ও আনন্দের দিন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার দেশ ছাড়তে বাধ্য হয় এবং এর মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়।

বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে নানা ধরনের নির্যাতন, গুম, খুন, হামলা, মামলা ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকেও রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছিল।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে দেশে গোপন বন্দিশালার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। এসব স্থানে বহু মানুষকে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয় এবং অনেকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিনি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ নিখোঁজদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রহসনে পরিণত হয়েছিল এবং দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যাংকিং খাত ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, পরিবহনকর্মী, পোশাকশ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, নারী ও শিশুসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একযোগে রাজপথে নেমে আসেন। তাঁর দাবি, আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন এবং ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

বাণীতে রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার মুগ্ধসহ বিভিন্ন শহীদের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সাহসী ভূমিকা আন্দোলনকারীদের অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি জানান, ওই আন্দোলনে হাজারো মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন। এছাড়া বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বা দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো গুরুতর ক্ষতির শিকার হন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তনের সূচনা হয়। তাঁর ভাষায়, এই ঘটনাটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও একটি ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি জাতির চিরন্তন ঋণ রয়েছে। তিনি সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ভিত্তি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ বা চরমপন্থার পুনরুত্থান হতে দেওয়া হবে না। তিনি জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম, আর ২০২৪ ছিল সেই স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই। দুই সময়ের শহীদদের অবদান জাতি সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD