Logo

৫ আগস্টের সাভার এখনও বহন করছে রক্তাক্ত সংঘর্ষের স্মৃতি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:০২
৫ আগস্টের সাভার এখনও বহন করছে রক্তাক্ত সংঘর্ষের স্মৃতি
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীতে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ সাভার পরিণত হয়েছিল সংঘর্ষের রণক্ষেত্রে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘোষিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিনভর আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলির ঘটনায় পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

ওই দিনের ঘটনায় কয়েকজন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন। দুই বছর পরও সেই রক্তাক্ত দিনের স্মৃতি সাভারের মানুষের মনে অমলিন।

৫ আগস্ট সকাল থেকেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে থাকেন। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ‘মার্চ টু ঢাকা’তে অংশ নিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং পরে আন্দোলনকারীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

দুপুরের দিকে মিছিলটি সাভারে পৌঁছালে পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। আন্দোলনকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে সাভার নিউ মার্কেট এলাকার সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পাশাপাশি গুলির ঘটনাও ঘটে। এতে শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজী মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এছাড়া অন্তত অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন বলে জানা যায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে দুপুরের পর। সেনাপ্রধান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ধীরে ধীরে পিছু হটতে শুরু করেন। এরপর আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন এলাকায় অগ্রসর হন এবং সাভার মডেল থানার সামনের এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

বেলা দুইটার দিকে সাভার প্রেসক্লাব ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে আন্দোলনকারীরা থানার দিকে এগোলে পুলিশ আবারও গুলি চালায়। তবে তারা পিছু না হটে সাভার সরকারি কলেজের সামনে অবস্থান নেন।

বিজ্ঞাপন

দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সাভারের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাভার পাবলিক লাইব্রেরি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে থানা রোডের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।

সন্ধ্যার দিকে আন্দোলনকারীরা অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে কিছু সময়ের জন্য পুলিশ সদস্যরা থানার ভেতরে অবস্থান নেন। পরে সন্ধ্যার আজানের সময় তারা আবার বেরিয়ে এসে গুলি চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে আরও শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।

ওই দিনের ঘটনায় আব্দুল আহাদ সৈকত, মো. হৃদয় আহমেদ, আলামিন হোসেন, মিঠু বিশ্বাস মারুফসহ আরও কয়েকজন নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাভার বাসস্ট্যান্ড অতিক্রম করে সেনাবাহিনীর একটি স্থাপনায় আশ্রয় নেন।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সাংবাদিক সেলিম আহম্মেদ জানান, ৪ আগস্ট থেকেই সাভার থানা রোড এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরদিন আন্দোলনকারীরা থানার সামনে অবস্থান নিলে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরে গুলির ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

নিহত শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী বলেন, তার ছেলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল। ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় সাভার নিউ মার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনে আহত মনঞ্জয় নামে একজন জানান, সাভার থানার সামনে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। চিকিৎসার একপর্যায়ে তার আহত হাত কেটে ফেলতে হয়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) জাহাঙ্গীর আলম জানান, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সাভার ও ধামরাই এলাকায় শতাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় অনেক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পলাতকদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ৫ আগস্টের সেই সংঘর্ষ, হতাহত এবং উত্তাল পরিস্থিতি সাভারের ইতিহাসে এক স্মরণীয় ও আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD