Logo

দুই বছর পরও শহীদ স্বজনদের চোখে থামেনি অশ্রুধারা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:২৭
দুই বছর পরও শহীদ স্বজনদের চোখে থামেনি অশ্রুধারা
ছবি: সংগৃহীত

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদদের পরিবারগুলোর বেদনা আজও অমলিন। আন্দোলনে প্রাণ হারানো স্বজনদের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে প্রতিদিন কাটছে তাদের জীবন। জুলাই-আগস্ট এলেই সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর স্মৃতি আরও গভীরভাবে ফিরে আসে, আর প্রিয়জনের ছবি বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

জুলাই গণআন্দোলনের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত ৩১ জন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণ হারান। গুলির মুখেও তারা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাদের আত্মত্যাগ আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকলেও পরিবারগুলোর জন্য তা আজও এক গভীর শোকের স্মৃতি।

জুলাই-আগস্টের ঘটনাগুলো শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়, বরং অসংখ্য পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি ও ত্যাগের প্রতীক। কেউ রাজধানী ঢাকায়, কেউ চাঁদপুরে, আবার কেউ নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের রক্তে রঞ্জিত সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও বহন করে চলেছেন স্বজনরা।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার সাজ্জাদ হোসেন। একইভাবে ফরিদগঞ্জে আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হন শাহাদাত হোসেন। দুই পরিবারের সদস্যরাই এখন তাদের সন্তানদের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছবি আঁকড়ে ধরে দিন কাটান।

সাজ্জাদ হোসেনের বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ১৯ জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে তার ছেলে নিহত হয়। তিনি জানান, জুলাই মাস এলেই ছেলের স্মৃতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে। তার স্ত্রী আজও সেই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় খোঁজখবর নেওয়া হলেও সন্তানের শূন্যতা কোনো কিছু দিয়েই পূরণ করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে শাহাদাত হোসেনের মা সিরতাজ বেগম বলেন, তার একমাত্র সন্তানকে আন্দোলনের সময় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি চান, ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়।

বিজ্ঞাপন

জুলাই আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী জাহিদুল ইসলাম বলেন, চাঁদপুরে আন্দোলনের সময় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন। তার দাবি, জেলার ৩১ জনের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত এবং শহীদ পরিবারগুলোর পাশে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, জেলার ৩১টি শহীদ পরিবারের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে তাদের খোঁজখবর রাখছে।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও আন্দোলনে প্রাণ হারানোদের পরিবারের কাছে সময় যেন থেমে আছে সেই রক্তাক্ত দিনগুলোতেই। প্রিয়জন হারানোর শোক আজও তাদের প্রতিটি দিনকে ভারী করে তোলে, আর জুলাই-আগস্ট ফিরে এলে সেই স্মৃতিগুলো আরও গভীরভাবে নাড়া দেয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD