Logo

তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৩২
তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে সরকারের জন্য প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে নদীঘিরে মানুষের বিদ্যমান সংকট আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে গিয়ে সরকার তিস্তা পরিকল্পনাকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখতে পাচ্ছে। নদীটির ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে একাধিক বিষয় জড়িত থাকায় শুধু একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি সতর্ক করে বলেন, তিস্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলে বর্তমানে নদী অববাহিকার মানুষ যে ধরনের সমস্যা ও ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন, ভবিষ্যতে তার মাত্রা আরও বাড়তে পারে। তাই সরকারকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জটিল একটি বিষয়। নদীকে নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে একটি সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে অন্য কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, তিস্তার ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন কোনো উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। এমন একটি সমাধান বের করতে হবে, যার মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি তিস্তা-নির্ভর মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা যায়।

মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নদীকে ঘিরে পানি প্রবাহ, নদীভাঙন, কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সেমিনারে তিস্তা নদীর পানি বণ্টন ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গেও কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

তিনি তিস্তা চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার ওপর জোর দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে দুই দেশের স্বার্থকে সমন্বয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের আলোচনায় নদীটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা, পানি প্রবাহ, পরিবেশ এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD