হাসিনা প্রত্যর্পণ ইস্যুতে তারেক রহমানের দিল্লি সফর অনিশ্চিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে তিনি ‘রূঢ়’ ও ‘অহংকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিজ্ঞাপন
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিক্রি বলেন, তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ নিয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সফর বাতিলের কোনো বার্তা ভারত পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
সিক্রির মতে, তারেক রহমানের ভারত সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবির সঙ্গে যুক্ত করা কূটনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ একটি দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়া এবং এ ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় লাগতে পারে। তাই এর সঙ্গে একজন প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফরকে শর্ত হিসেবে যুক্ত করা ঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে দুবার ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রথম আমন্ত্রণে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারসহ দ্বিপাক্ষিক সফরের কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্যও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে এসব আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনো প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন সিক্রি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, তারেক রহমানের সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে না। একই সঙ্গে এতে সফরের গুরুত্বও ক্ষুণ্ন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা
বিজ্ঞাপন
২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ৫ আগস্টের ওই অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দিল্লি সফর নিয়ে দুই দেশের কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তৈরি উত্তেজনার কারণে এখনো সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের পাশাপাশি শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদেরও দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে হস্তান্তরের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে দেওয়া বক্তব্যের কোনো দায় ভারত সরকার নেবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সূত্র: এএনআই








