জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন-বাণিজ্যে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের প্রথম দিনে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার এবং উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির বিষয় উঠে আসে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনীতি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই নেতা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
ভুটান ও মালদ্বীপের সঙ্গে বৈঠকে পর্যটন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়েছে। হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশটির চলমান পরিস্থিতি এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ গুরুত্ব পায়। জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন এবং সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
বিজ্ঞাপন
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ও আলোচনায় আসে।
এদিকে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময় ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার যে আবেদন করেছে, সেটির পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের বিষয়টিও সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকট এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ।








