Logo

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:৩৫
বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে: মাহদী আমিন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ ও নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে একটি চুক্তি সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বিজ্ঞাপন

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে বুধবার স্থানীয় সময় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন ও বোয়িংয়ের কমার্শিয়াল সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মাহদী আমিন নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বোয়িং জানিয়েছে, নতুন অর্ডারে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে করা ১৪টি উড়োজাহাজের আগের অর্ডারের সঙ্গে নতুন ১১টি যোগ হওয়ায় বোয়িংয়ের কাছে বিমানের মোট পরিকল্পিত অর্ডার দাঁড়িয়েছে ২৫টি।

মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। যাত্রী ও যোগাযোগের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, নতুন চুক্তিটি বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের পরিচালন সক্ষমতা, রুট পরিচালনার নমনীয়তা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

এর আগে এপ্রিল মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি করেছিল বিমান। নতুন ১১টি যুক্ত হওয়ায় বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের মোট পরিকল্পিত উড়োজাহাজ সংগ্রহের সংখ্যা ২৫-এ পৌঁছেছে।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সফরে স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি মিয়ানমারে পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং প্রয়োজন হলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর সংঘাতের প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন ও ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় উভয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি। নদী-খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, নবায়নযোগ্য ও সৌর জ্বালানির ব্যবহার এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD