Logo

রাড্ডা কেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:৩৭
রাড্ডা কেন্দ্র ভাঙচুরে এমপি-পুলিশ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঘটনায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন।

কোনো সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্তে যারা জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ঘটনাস্থর পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কমিশনার বলেন, এত জনাকীর্ণ এলাকায় পুরো স্থাপনা ভাঙচুর আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যে করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, ঘটনাটি সময় নিয়ে ঘটানো হয়েছে। দুই পাশের টিনের শেডও ভাঙা হয়েছে এবং ভবনের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের আলামত পাওয়া গেছে। ল্যাবের অনেক যন্ত্রপাতিও পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনা জানার পর মিরপুর বিভাগের উপকমিশনারকে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় একজনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ২০০ থেকে ২৫০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি এবং পুলিশ কেন তা ঠেকাতে পারেনি—এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পুলিশ বিষয়টি জানার পর সময়মতো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল কি না এবং কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এডিসি দারুসসালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যারা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত, তদন্তে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে কেন্দ্রে ঢুকে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে সেখানে একটি দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রী, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা এবং বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। তার দাবি, শুধু যন্ত্রপাতি ও মালামালের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক দেড় কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মিরপুরের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতিসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। ভাঙচুরের কারণে এসব সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, চুরি, হুমকি ও বড় অঙ্কের ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তের পাশাপাশি জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD