ফ্যাসিস্টদের বিচার আগে, পরে জাতীয় পুনর্মিলন: ডেপুটি স্পিকার

বাংলাদেশে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার রূপকার ও ফ্যাসিস্টদের বিচার নিশ্চিত হওয়ার পরই জাতীয় পুনর্মিলনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর ‘মহাসংলাপ: ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও জাতীয় পুনর্মিলন’ শীর্ষক অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় পুনর্মিলন উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি জবাবদিহি থেকে রক্ষা করার চেষ্টা। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন কেউ স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে জন্য বিচারিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার না বানিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে শুধু সরকার পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখতে চান না কায়সার কামাল। তাঁর মতে, এই আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে। দীর্ঘদিন আইনের শাসন উপেক্ষা এবং নাগরিক স্বাধীনতা দমনের বিরুদ্ধে মানুষ রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করেছে। তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার।
ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নাকচ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যারা পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অংশ নেওয়ার নৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার হারিয়েছে। রাজপথে প্রাণ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তনকে স্মরণ রেখে জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রশ্নোত্তর পর্বে বিচারহীনতার রাজনৈতিক সংস্কৃতি অবসানের কথা বলেন কায়সার কামাল। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের এ অধিবেশনে দেশি-বিদেশি গবেষক ও চিন্তাবিদরা অংশ নেন। আলোচনায় বক্তব্য দেন নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর, ভারতের রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ এশিয়া স্টাডিজ সেন্টারের অধ্যাপক করোরি সিং, দক্ষিণ আফ্রিকার উইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাদালিতসো জিলিলো ফিরি এবং কলম্বিয়ার সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক নিকি সিঙ্গার।








