Logo

নিরাপদ পানি সরবরাহে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৪৮
নিরাপদ পানি সরবরাহে ২৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরিকল্পনা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পানি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পানি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য হলেও দূষিত পানি নানা রোগের পাশাপাশি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। এ কারণে দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে ইউনিসেফসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন নদ-নদীতে পর্যাপ্ত পানি থাকলেও উজানে পানি প্রত্যাহার এবং নদী শুকিয়ে যাওয়ার কারণে পানির সংকট তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব উত্তরের অঞ্চলে মরুকরণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ক্রমেই উজানের দিকে প্রবেশ করছে। ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দিতে সরকার জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। এ প্রকল্পের অর্থায়ন কীভাবে করা হবে, বৈঠকে সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে আবদুল মঈন খান বলেন, বিভিন্ন সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে আলোচিত প্রকল্পটির মোট ব্যয় প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমান।

বৈঠকে ইউনিসেফের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এসব উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানির প্রাপ্যতা ও মানের পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

বিদেশি সহায়তার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা পেয়ে আসছে। তবে অতীতে পাওয়া সেই সহায়তা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে উন্নত দেশগুলোর নিজেদের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণও কমছে বলে জানান মন্ত্রী। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যমান অর্থায়নকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ সময় সরকারের জবাবদিহি ও দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়েও কথা বলেন আবদুল মঈন খান। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে হওয়া অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।

ভবিষ্যতে দুর্নীতি কমিয়ে জনগণের সেবায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে নিয়োজিত করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD