Logo

প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:৩১
প্রতিটি শিক্ষার্থীর সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের ত্যাগের গল্প
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিটি শিক্ষার্থীর অর্জন ও সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং দীর্ঘদিনের সংগ্রাম জড়িয়ে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। শিক্ষার্থীদের অর্জনের পাশাপাশি তাঁদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান স্মরণ রেখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) ৩৮তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের জীবনে অনেক বড় বড় স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন, তা উচ্চশিক্ষায় একাডেমিয়াতেই হোক, মাস্টার্স বা পিএইচডি করার পরবর্তী ধাপেই হোক, পেশাগত ক্যারিয়ারের চাকরিতেই হোক, যা আপনারা বাংলাদেশে কিংবা দেশের বাইরে শুরু করতে যাচ্ছেন, কিংবা আপনাদের কোনো উদ্ভাবনী চিন্তাই হোক না কেন, সবকিছুই ভবিষ্যৎমুখী। এটি অসাধারণ, কারণ তা অর্জন করেছেন। আজ যে সার্টিফিকেটটি পেয়েছেন, তা আপনাদের একটি আলোকিত এবং সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুত করবে।

কিন্তু একই সঙ্গে পেছনের পথচলাটির দিকেও তাকাতে বলব। এই বর্তমানের পেছনে রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল অতীত, যেখানে রয়েছে আপনাদের নির্ঘুম রাত, পরীক্ষার উদ্বেগ ও ল্যাবরেটরির নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বাবা-মায়ের লক্ষ্যপূরণের দীর্ঘ পথচলা।

বিজ্ঞাপন

আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও ব্র্যান্ডিং ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, আইইউটি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ও দেশের সবচেয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। অসাধারণ সব প্রতিভাবান প্রকৌশলী তৈরির এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের, যারা বিশ্বজুড়ে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। গ্র্যাজুয়েটরা বের হওয়ার সময় আইইউটির সেই সুনাম ও ব্র্যান্ডিং সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন।

আইইউটির সঙ্গে মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও বিএনপির গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার একটি বিশেষ ব্যক্তিগত অনুভূতিও রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ফিলিস্তিনের মহান নেতা ইয়াসির আরাফাতকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আইইউটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে আইইউটির গুরুত্ব অপরিসীম।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুবার এই সবুজ ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং সমাবর্তনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেছেন। বর্তমানে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনায় রয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করেন, অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও আগামী দিনগুলোতে একইভাবে আইইউটি ক্যাম্পাসে আসবেন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসারে অবদান রাখবেন, ইনশাআল্লাহ।

বিজ্ঞাপন

আইইউটিকে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ডিগ্রি অর্জনের বাইরে গিয়ে সমাজ ও মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, আইইউটি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃত্ব, অভিন্ন লক্ষ্য এবং একটি সমৃদ্ধ যৌথ ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাসের প্রতিনিধিত্ব করে।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে মাহদী আমিন বলেন, অর্জিত সার্টিফিকেট ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কেবল ক্যারিয়ারের দিকনির্দেশক নয়। ক্যাম্পাসে কাটানো সময়ের অভিজ্ঞতা, গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব এবং অর্জিত বিশেষ দক্ষতা শিক্ষার্থীদের আগামী জীবনে এক বিশাল ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

বিজ্ঞাপন

শিক্ষার্থীদের মেধা ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আপনারা এই জ্ঞান, দক্ষতা ও ডিগ্রি দিয়ে কী করবেন? তিনি উল্লেখ করেন, গ্র্যাজুয়েটদের সামনে দুটি পথ রয়েছে—একটি হলো কেবল নিজের কথা ভাবা, ভালো চাকরি নিশ্চিত করা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা বা ব্যবসা শুরু করে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার গড়া।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের সক্ষমতা ও মেধা অন্যদের চেয়ে আলাদা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সফল ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়েও বড় দায়িত্ব হলো সমাজ ও মানবজাতির সেবায় কাজ করা। সবার এই বিশেষ সুযোগ বা সামর্থ্য থাকে না, কিন্তু আইইউটির শিক্ষার্থীদের সেই অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কেবল নিজের সফলতায় সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজ ও দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে নতুন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করার জন্য তিনি তরুণ প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিজ্ঞাপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বজায় রেখে মানবকল্যাণে কাজ করার জন্য তরুণ প্রকৌশলী ও গ্র্যাজুয়েটদের আহ্বান জানান মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রোবোটিক্স বড় ডেটা বিশ্লেষণ করতে পারে, কোড লিখতে কিংবা নতুন উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করতে পারে; কিন্তু প্রযুক্তিকে কীভাবে চালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা চূড়ান্তভাবে মানুষের ওপরই নির্ভর করে। মানুষের সুবুদ্ধি, সততা ও মূল্যবোধই ঠিক করে দেবে, এই প্রযুক্তি সমাজের উপকারে আসবে নাকি ক্ষতি সাধন করবে।

মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, বরং এটি সমাজকে এগিয়ে নেবে নাকি পিছিয়ে দেবে—সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল ভূমিকা গ্র্যাজুয়েটদেরই পালন করতে হবে। তাই প্রযুক্তিকে মানবজাতির কল্যাণ এবং নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নে ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা কিংবা প্রকৌশল খাতের শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতে নতুন রূপান্তর আনতে, বাস্তবমুখী গবেষণা করতে এবং সমাজের প্রকৃত সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার তাগিদ দেন।

বিজ্ঞাপন

আইইউটির সম্ভাবনা ও সরকারের সদিচ্ছা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তির পরবর্তী সেরা উদ্ভাবনটি যে কেবল সিলিকন ভ্যালি থেকেই আসতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আইইউটির গ্র্যাজুয়েটদের মধ্য থেকেই প্রযুক্তির পরবর্তী যুগান্তকারী বিপ্লব সূচিত হতে পারে। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক সহায়তা প্রদান এবং শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পথ দেখিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

উপস্থিত বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাহদী আমিন আহ্বান জানান, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ, মূল্যবোধ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একই। তাই জ্ঞানকে অভিন্ন ভাষা, উদ্ভাবনকে যৌথ স্বার্থ এবং মানবতাকে মূল লক্ষ্য হিসেবে ধারণ করে বিশ্বজুড়ে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা যেন তাদের অর্জনের পেছনে বাবা-মায়ের অসামান্য ত্যাগ, ভালোবাসা ও সংগ্রামের কথা স্মরণে রেখে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন—সেই বার্তাও দেন মাহদী আমিন।

গ্র্যাজুয়েটদের সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়া এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, শিক্ষকরা জ্ঞান দিয়েছেন, পরিবার দিয়েছে আত্মপরিচয় ও শিকড়, আর অর্জিত শিক্ষা ও ডিগ্রি তরুণদের উড়ার ডানা দিয়েছে। এখন অর্জিত মেধা ও শক্তিকে কোন দিকে চালিত করবেন এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব গ্র্যাজুয়েটদের নিজেদেরই।

মাহদী আমিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কেবল ক্ষণস্থায়ী সফলতা নয়, বরং এমন কিছু তৈরি করতে হবে, যা স্থায়ী হয় এবং যা মানুষের নিত্যদিনের সংকট ও সমস্যার সমাধান করে। বিনয়ের সঙ্গে মানুষের সেবা করা, অর্জিত আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করা এবং সমাজকে পথ দেখানোর তাগিদ দেন তিনি।

বাংলাদেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে অসীম সম্ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অর্জিত ডিগ্রি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছাতে হবে এবং নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে আইইউটি, পরিবার, সমাজ তথা পুরো দেশকে গর্বিত করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সকল গ্র্যাজুয়েটের ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত জীবনের সাফল্য কামনা করে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, অর্জিত জ্ঞান যেন সমাজে প্রগতি নিয়ে আসে এবং চারিত্রিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে সবাই যেন সম্মান কুড়াতে পারেন। এই তরুণ মেধাবীরাই তাদের মেধা ও কর্মের মাধ্যমে আজকের বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে বদলে দেবেন এবং বিশ্বজুড়ে এক গভীর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আইইটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন বিন ইবনে রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব রাষ্ট্রদূত আফতাব আহমেদ খোখোর, সংস্থাটিতে বেনিন প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আদম বাগৌদু জাকারি এবং রিয়াদে চাদ দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মাহামাদ সালেহ আলজাজৌলি।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ইরাক দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স আলী এম. আলওয়াশ, ব্রুনাই দারুসসালামের হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন হাজি ওসমান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রীয় দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জিয়াদ এম. এইচ. হামাদ।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD