Logo

দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা, প্রস্তুত সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৮:১৮
দুর্গাপূজায় তিন স্তরের নিরাপত্তা, প্রস্তুত সোয়াট ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল
ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। পূজার আগে, উৎসব চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল প্রস্তুত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে এসব তথ্য জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

আইজিপি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজাকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।

বিজ্ঞাপন

গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, অপপ্রচার, গুজব কিংবা ছবি প্রকাশের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও পর্যাপ্ত আলোর নির্দেশনা

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনস্থলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, সিআরটি, কিউআরটি, ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট প্রস্তুত থাকবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেলও চালু রাখা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা

সভায় পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের প্রধান ও কর্মকর্তাদের পাশাপাশি মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।

বিজ্ঞাপন

সভায় অংশ নেওয়া ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দুর্গাপূজা উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তাব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকার ও পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। উল্লেখ্য, এ বছর দেশে প্রায় ৩৩ হাজার পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD