Logo

তামাকের কারণে বছরে ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ২১:২৫
তামাকের কারণে বছরে ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

তামাকের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসের কারণে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন আয়োজিত ‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ ও পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তামাকের ব্যবহার কমানো, তরুণদের সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষেও সমর্থন জানান তিনি।

সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও তামাক নিয়ন্ত্রণকর্মীরা সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানান। একই সঙ্গে ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান তারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বক্তারা জানান, গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (জিএটিএস) ও তামাকের অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি-সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তামাকজনিত রোগে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫৪৬ জনের মৃত্যু হচ্ছে তামাকের কারণে। তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু জনস্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তাদের ভাষ্য, তামাক চাষের কারণে বন উজাড়, মাটির উর্বরতা হ্রাস এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬-এ ই-সিগারেট ও অন্যান্য নতুন নিকোটিনজাত পণ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বক্তারা বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিপণন কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

তারা জানান, বিশ্বের ৪০টি দেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ রয়েছে। বাংলাদেশেও ই-সিগারেটসহ নতুন নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান বক্তারা। পাশাপাশি এসব পণ্যের প্রচার ও সহজলভ্যতা বন্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তারা।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক আখতার-উজ-জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমান।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সংযুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোকাদ্দেম হোসেন এবং বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিপু। এ ছাড়া ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD