Logo

৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ নিয়ে মহাসমাবেশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:০৭
৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ নিয়ে মহাসমাবেশ, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
গ্রাম পুলিশের ফাইল ছবি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর রাজধানীতে গ্রাম পুলিশের মহাসমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে সারা দেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার সদস্য অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে মহাসমাবেশের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের নিয়ে সরকারিভাবে এ ধরনের মহাসমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সাবেক বাণিজ্যমেলার মাঠে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, এত দিন গ্রাম পুলিশরা নিজেদের সংগঠনের মাধ্যমে সমাবেশ করে মন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতেন। পরে সরকার সেসব দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিত। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি তাদের কথা শুনতে চান এবং সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে আগ্রহী।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মীর শাহে আলম বলেন, ‘একদম তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর যারা রাখেন, পুলিশকে সহায়তা করেন, ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করেন, সেই গ্রাম পুলিশদের কথা প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শুনতে চান। তাদের দাবি-দাওয়াগুলো শুনে যতদূর সম্ভব সরকারের সামর্থ্যের মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আয়োজনের দায়িত্বে থাকবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ ছাড়া বিভাগের সচিব, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাদের আইনগত ক্ষমতা, বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর সম্ভাবনা যাচাই করছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকদের (ডিডিএলজি) আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রস্তাব দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করবেন, সেগুলো মহাসমাবেশে ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গ্রাম পুলিশরা সমাবেশে নতুন কোনো দাবি জানালে সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। সমাবেশস্থলের পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়ে আরেকটি প্রস্তুতিমূলক সভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কম। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছে নেই বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘কাল থেকে ব্যাপক আকারে আমরা মাইকিং করব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার তো করবই। সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হবে, যাতে তারা নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখেন এবং এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর উপযোগী জায়গাগুলো ধ্বংস করেন’।

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি শনিবার বিএনসিসি, স্কাউট, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার এ কার্যক্রম চলবে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর পল্টন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত এলাকায় দুর্গন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় পুরো ঢাকা শহরেই দুর্গন্ধের সমস্যা ছিল। ধাপে ধাপে শহরকে দুর্গন্ধমুক্ত করার কার্যক্রম চলছে।

এ সময় উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাকে বিষয়টি নোট করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD