Logo

আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা দেখি না: জাহেদ উর রহমান

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১৬:১৯
আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলনের সম্ভাবনা দেখি না: জাহেদ উর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা বা পুনর্মিলনের কোনো সম্ভাবনা ব্যক্তিগতভাবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের বিচার নিশ্চিত না করে পুনর্মিলনের আলোচনা হতে পারে না। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দায় স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের পরিবর্তে সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন উপদেষ্টা।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর বিষয়টি নিয়ে অনেকে আলোচনা করেছিলেন। তবে এ ধরনের উদ্যোগের আগে গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘রিকনসিলিয়েশনের জন্য....মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ যারা করেছে, তাদের বিচার তো হতে হবে। এগুলো ক্রিমিনাল অফেন্স। রিকনসিলিয়েশনের আলাপ হয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে, কোনো কোনো জায়গায়, কারও কারও অপরাধের ক্ষেত্রে। সেই রিকনসিলিয়েশনের আলাপ হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

উপদেষ্টার অভিযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মুখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়ার পরও দলটির পক্ষ থেকে অনুতাপ প্রকাশের লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং বিভিন্নভাবে সংকট সৃষ্টি ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়া, অনুতাপ দূরে থাকুক, তারা হুমকি দিচ্ছেন, তারা বাংলাদেশের সহিংসতা নানানভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’

জাহেদ উর রহমানের মতে, পুনর্মিলনের ন্যূনতম সম্ভাবনা থাকলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই প্রথমে অপরাধের দায় স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে দলটির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে সেই সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ন্যূনতম কোনো সম্ভাবনা যদি থেকে থাকে, সেটা আওয়ামী লীগকে তার জায়গা থেকে বলার কথা ছিল। কিন্তু আজকে আমরা যে জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, দুই বছর পার হয়ে গেছে এবং তাদের যে আচরণ, আমার মনে হয় এটা খুব স্পষ্ট, সেটার আদৌ কোনো সম্ভাবনা আছে কি না। কোনো সম্ভাবনা আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখি না।’

আওয়ামী লীগ দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এটি পরবর্তী পর্যায়ের বিষয়। দায় স্বীকার ও ক্ষমা চাইলেই যে পুনর্মিলনের আলোচনা শুরু হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তাঁর ভাষায়, ‘এগুলো করলেন, মানে এটার শর্ত না যে এটা করলে রিকনসিলিয়েশন শুরু, আলোচনা শুরু হতে পারে, মোটেও না। এটা করলে রিকনসিলিয়েশনের আলাপ শুরু করা যাবে কি না, সেই আলাপ হতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে দায় স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়ার উদ্যোগ নিলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এরপর সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া ও ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণের বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে চায় সরকার

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে দেশে ফেরানো নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তাঁকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চায়। তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার হয়েছে এবং শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমাদের কি কোনো অস্পষ্টতা আছে যে শেখ হাসিনাকে আমরা চাই না বাংলাদেশে? আমরা ন্যায়বিচারের স্বার্থে, আবারও বলছি, এটা কোনো প্রতিশোধের প্রশ্ন না, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আছে, সেটার বিচার শেষ হয়েছে, তিনি প্রাথমিকভাবে সেটার জন্য দায়ী বিবেচিত হন, তার শাস্তি হয়েছে। আমরাই চাই উনি আসুক।’

শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের কাছে সরকারের অনুরোধ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি। উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়ও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের অনুলিপি পাঠিয়ে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তবে অনুরোধ জানানো হলেই ভারত তাঁকে ফেরত পাঠাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান। এ বিষয়ে ভারতের অবস্থানসহ আরও কিছু বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

অপসাংবাদিকতা রোধে প্রেস কাউন্সিল শক্তিশালী করার উদ্যোগ

গণমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হেনস্তার ঘটনা যেভাবে উপস্থাপন করা হয়, তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কিছু গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন সরকারের নজরে রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের অংশ হিসেবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তবে সংবাদমাধ্যমের প্রতিটি ঘটনার নিজস্ব ব্যাখ্যা দেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে কেউ আইনি সীমা লঙ্ঘন করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অপসাংবাদিকতা মোকাবিলায় প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান জাহেদ উর রহমান। তাঁর মতে, বর্তমান প্রেস কাউন্সিলের সক্ষমতা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আইন পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে থেকেও সংবাদমাধ্যমের অনিয়ম মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়।

পুলিশের মনোবল নিয়ে যা বলছেন উপদেষ্টা

পুলিশের বর্তমান সক্ষমতা ও মনোবল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে পুলিশ বাহিনীকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তার ফলে বাহিনীটির প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়। এর প্রভাব পুলিশের আত্মবিশ্বাস ও মনোবলেও পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও পুলিশ বাহিনী মনোবল ও আত্মবিশ্বাসের সংকটে ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং পুলিশ ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে বলে তাঁর দাবি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমাদের পুলিশ বাহিনী তার যে সক্ষমতা, তার যেই কনফিডেন্স, সেটার পূর্ণাঙ্গ জায়গায় পৌঁছেনি, যে একটা অপটিমাম জায়গা যেটা রাষ্ট্র ডিজার্ভ করে। এবং এটার পেছনে যে কারণ আছে, সেটাও সঠিক কারণ।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সরকারের বৈধ নির্দেশনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে পুলিশ বাহিনী ধীরে ধীরে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। এ জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন হতে পারে। তবে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে, বিষয়টি এমন নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD