Logo

আজ দেবীর বোধন, কাল থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৮
আজ দেবীর বোধন, কাল থেকে শুরু শারদীয় দুর্গোৎসব
ছবি: সংগৃহীত

দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে সূচনা হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, অকালবোধনের মাধ্যমে নিদ্রিত দেবী দুর্গাকে জাগ্রত করার শাস্ত্রীয় রীতি পালন করা হয়। এই আনুষ্ঠানিকতার পর আগামীকাল শুক্রবার মহাষষ্ঠীর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়। তবে চলতি বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় পূজার আনুষ্ঠানিকতা এক দিন বেড়ে ছয় দিনে গড়াচ্ছে।

সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার মহাসপ্তমী এবং রবিবার অধিক পূজার মাধ্যমে মহাসপ্তমীর আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। সোমবার উদযাপিত হবে মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা। মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা শেষে বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সারা দেশে মোট ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৪৯৬টি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে ঢাকা মহানগরীতে রাস্তার ওপর পূজার আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় মণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার রাজধানীতে তিনটি মণ্ডপ কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮টিতে।

এদিকে দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো খবরের সত্যতা যাচাই না করে তাতে লাইক, মন্তব্য বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপনের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র এবং ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা বাহুবন্ধনী নিশ্চিত করতে আয়োজকদের বলা হয়েছে।

উৎসব চলাকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের নির্দেশনায় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের আশপাশের পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তার জন্য বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নম্বর প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) (০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০), ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯) এবং ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯)।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD