ডেঙ্গুর টিকা আনতে উদ্যোগ নেবে সরকার, অর্থের সংকট হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অর্থের সংকট হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা থেকে আদায় করা অর্থ রোগটিতে মারা যাওয়া অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়বিষয়ক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব উদ্যোগ রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ববোধ বাড়িয়েছে। তবে শুধু সরকারি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করলে চলবে না, ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সরকারি উদ্যোগের কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন।
ডিএসসিসি প্রশাসকের ভাষ্য, ডেঙ্গু এখন জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, লং মার্চের মতো কর্মসূচির কারণে জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
অতীত সরকারের সমালোচনা করে আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে আগের সরকারের ব্যর্থতা ছিল। দেশের সংকট মোকাবিলায় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রাজধানীর প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে হকার ও অটোরিকশার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, এ দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে এখনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন সারা বছর মানুষের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রোগটির প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। পরিস্থিতি এখনো মহামারি পর্যায়ে না পৌঁছালেও হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ও চিকিৎসাসংক্রান্ত ভোগান্তি উদ্বেগজনক।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়ছে। অনেক রোগীকে হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে কিংবা সিঁড়ির নিচে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত উদ্যোগ ও পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে জরিমানা হিসেবে আদায় করা অর্থ রোগটিতে মারা যাওয়া অসচ্ছল ব্যক্তিদের পরিবারকে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। পাশাপাশি বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া গেলে ডেঙ্গুর টিকা সংগ্রহে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
আগের সরকারের আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান। তাঁর বক্তব্যে মশার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার সরঞ্জাম সরবরাহ, স্যালাইনের সংকট এবং পরীক্ষার নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের মতো বিষয় উঠে আসে। এসব ঘটনায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরও বলেন, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়, যা দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। সে সময় মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁস পালনের উদ্যোগ নিয়েও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি দলের প্রতিনিধিত্বকারী কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, প্রতীক ইজাজ, মো. মেহেদী হাসান এবং জেনিয়া কবির সূচনা।








