Logo

স্পিনিং শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিটিএমএ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২৩
স্পিনিং শিল্প রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় বিটিএমএ
ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় স্পিনিং শিল্পের বিনিয়োগ, উৎপাদন সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে তুলার সুতার আমদানি নীতি এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিটিএমএ জানায়, ১০–৩০ ইংলিশ কাউন্টের তুলার সুতার আমদানিতে প্রচলিত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানি ব্যবস্থা চালু রাখা এবং স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করা প্রয়োজন।

সংগঠনটির তথ্যমতে, দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে, বিশেষ করে স্পিনিং শিল্পে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিস্তৃত উৎপাদন অবকাঠামো এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান। ফলে শিল্পটির আর্থিক ও উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিটিএমএ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে বলা হয়, বন্ধ ও আংশিক বন্ধ স্পিনিং এবং উইভিং মিলগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে বিদ্যমান কর্মসংস্থান সুরক্ষার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ আদায় বাড়ানো এবং খেলাপি ঋণের চাপ কমাতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে।

ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে আমদানি ব্যবস্থা বহালের দাবি

বিজ্ঞাপন

বিটিএমএ জানিয়েছে, ১০–৩০ ইংলিশ কাউন্ট বা আনুমানিক ১৬.৯৩–৫০.৮০ মেট্রিক কাউন্টের তুলার সুতার আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারকে নতুন শুল্ক আরোপ কিংবা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখা উচিত নয়। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশ অনুসারে প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে আমদানি করার সুযোগ রয়েছে।

বিটিএমএর দাবি, ব্যাংক গ্যারান্টি সাধারণত নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের আওতায় দেওয়া হয়। ফলে এ ব্যবস্থায় আমদানিকারকদের কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ পড়ার আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম। সংগঠনটি মনে করে, এ পদ্ধতি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানোর পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং দেশীয় ও আমদানিকৃত সুতার মধ্যে ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে পারে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমদানিকৃত সুতা অনুমোদিত কাজে ব্যবহারের প্রমাণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। তা না হলে বিধি অনুযায়ী ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়নের ব্যবস্থা থাকা উচিত। অন্যদিকে, রপ্তানি কার্যক্রম ও আয় প্রত্যাবাসন যাচাই সম্পন্ন হলে গ্যারান্টি অবমুক্ত করা যেতে পারে। ডিজিটাল নজরদারি এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষার মাধ্যমে বৈধ রপ্তানি কার্যক্রম সচল রেখেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত ৩০ শতাংশে ফেরানোর প্রস্তাব

বিটিএমএর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো, নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল করা। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের শিল্প খাতের সক্ষমতা ধরে রাখতে পর্যায়ক্রমে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ৪০ থেকে ৬০ শতাংশে উন্নীত করার উপযোগী নীতিকাঠামো তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিধান, উৎপত্তিবিধি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দুই ধাপের রূপান্তরসংক্রান্ত শর্ত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিটিএমএ। সংগঠনটির মতে, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হবে।

স্পিনিং ও তৈরি পোশাকশিল্পের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ নীতির আহ্বান

বিজ্ঞাপন

বিটিএমএর বক্তব্য, দেশীয় স্পিনিং শিল্পের বিনিয়োগ ও উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে কাঁচামাল সরবরাহ—এ দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। বরং ভারসাম্যপূর্ণ নীতি, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং কার্যকর নজরদারির মাধ্যমে উভয় খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংগঠনটি মনে করে, দেশীয় সুতা উৎপাদন সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়লে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে, তৈরি পোশাকশিল্পের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করাও রপ্তানি প্রতিযোগিতার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। তাই দুই খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত নীতি গ্রহণ করা জরুরি।

শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা এবং এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বিটিএমএর প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

বিটিএমএর প্রত্যাশা, স্পিনিং ও তৈরি পোশাকশিল্পকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি নীতিকাঠামো প্রণয়ন করা হলে দেশের শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংকঋণ পুনরুদ্ধার এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD