নিরাপদ খাদ্য আইনে অক্টোবরে জরিমানা সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা, ২৮ মামলা

দেশজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান জোরদার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিচালিত ৩৪টি অভিযানে মোট ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় দায়ের করা হয়েছে ২৮টি মামলা।
বিজ্ঞাপন
একই মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ১২৭টি খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং করেছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি রপ্তানিযোগ্য চারটি পণ্যের স্বাস্থ্যসনদ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে ঢাকা মহানগর এলাকায় ১৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১১টি মামলা করা হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তদারকির সময় খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ না থাকা, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ দেখাতে না পারার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ঢাকা মহানগরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও ১৭টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে রান্নাঘরে তেলাপোকার বিচরণ, পোড়াতেল ব্যবহার, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ও পণ্য ব্যবহার, পণ্যের গায়ে লেবেল না থাকা এবং নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদনের মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়।
এসব অনিয়মের কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়।
খাদ্যস্থাপনায় তদারকি জোরদার
বিজ্ঞাপন
আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সারা দেশে মনিটরিং কার্যক্রমও জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর মাসে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১ হাজার ১২৭টি খাদ্যস্থাপনায় তদারকি চালানো হয়।
এসব কার্যক্রমে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপদ খাদ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
প্রচারণায় গুরুত্ব সচেতনতা বৃদ্ধিতে
বিজ্ঞাপন
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সচেতনতামূলক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতারেও নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক অডিওবার্তা প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খাদ্যব্যবসার রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সারাদেশের সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একার পক্ষে সম্ভব না। এটা একটা বহুমুখী উদ্যোগের সম্মিলিত ফসল। তাই সংশ্লিষ্ট সকলে এ কাজে হাত বাড়িয়ে দিলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই কার্যক্রম আরও গতিশীল ও বিস্তৃত হবে।”








