উসকানিতে পা না দিয়ে কাজে ফেরার আহ্বান শ্রমিকনেতা বাবুলের

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা নিরসনে শ্রমিকদের কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া না দিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও নিম্নতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আখতার। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবি বোর্ডের প্রথম বৈঠকেই তুলে ধরার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাবুল আখতার।
তিনি জানান, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শিগগিরই বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মাসিক ২৭ হাজার ৫০০, ৩০ হাজার, ৩২ হাজার ও ৩৭ হাজার টাকা এবং ৩০০ ও ২৬০ ডলারের মতো প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার শ্রমিক সংগঠনগুলোর জোটের বৈঠকে আলোচনা হবে। সেখান থেকে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব চূড়ান্ত করে মজুরি বোর্ডে জমা দেওয়া হবে।
শিল্পকারখানায় চলমান অস্থিরতা প্রসঙ্গে বাবুল আখতার বলেন, অধিকাংশ শ্রমিকই কাজে থাকতে চান। কিন্তু বহিরাগতদের ঢিল ছোড়ার ঘটনায় অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শ্রমিকেরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামছেন। বিভিন্ন স্থানে বকেয়া মজুরি না পাওয়া শ্রমিকদের পাশাপাশি হকার, উচ্ছেদের শিকার ব্যক্তি এবং রাজনৈতিক দলের লোকজনও আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই বহিরাগত—এমন তথ্য তুলে ধরে বাবুল আখতার কয়েকজন আটক শ্রমিক নেতার মুক্তি দাবি করেন। তাঁদের যেন হয়রানি করা না হয় এবং রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন না করা হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো ধরনের উসকানি বা প্রলোভনে পা দিয়ে শিল্পকারখানার ক্ষতি করা যাবে না। শ্রমিকদের স্বার্থেই পোশাকশিল্পকে সচল রাখা জরুরি। শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, কোনো শ্রমিক অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে এবং এ কারণে বিপদে পড়লে শ্রমিক ফেডারেশনগুলো তাঁর পাশে থাকবে না।
মজুরি বৃদ্ধির দাবি আদায়ে শ্রমিক প্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধভাবে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাবেন বলে জানান বাবুল আখতার। আগামী ২৬ ডিসেম্বর বর্তমান মজুরি কাঠামোর তিন বছর পূর্ণ হবে। এর আগেই নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার থেকেই শ্রমিকেরা কাজে ফিরবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শ্রমিকেরা কর্মস্থলে ফিরবেন বলে তাঁরা আশাবাদী। অতীতেও বহিরাগতদের ইন্ধন ও অনাকাঙ্ক্ষিত তৎপরতা বন্ধ করা গেলে আন্দোলন থেমেছে এবং শ্রমিকেরা কাজে ফিরে গেছেন।
কারখানাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান এই শ্রমিকনেতা। যেসব শ্রমিক কাজে যোগ দিতে চান, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বাইরে থেকে কেউ যেন কারখানায় ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করতে না পারে কিংবা গেট ভেঙে শ্রমিকদের জোর করে বাইরে বের করে আনতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এ কাজে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সম্পৃক্ত করার কথা বলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এর আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং শ্রমিকনেতা ও সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া বৈঠকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বাবুল, স্বাধীন গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক, জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রেডিমেড গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন এবং বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি মো. জাকির হোসেন।








