Logo

শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত, প্রত্যাশা আইনমন্ত্রীর

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১৩:৩৫
শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত, প্রত্যাশা আইনমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে ভারত সরকার বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিচারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্টিগ্রিটি ওয়ার্কশপে’ বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত মামলার রায়ে বাংলাদেশ ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ও গণহত্যায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার থাকতে হবে, তেমনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

এ প্রসঙ্গে তিনি একাত্তরের সংগ্রামে শহিদ জাফর, জয়নায়াল, দীপালী সাহা, কাঞ্চন, রাফুন, বসুনিয়া, জিহাদ ও ডাক্তার মিলনের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আনাসসহ ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৩০০ জন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কথা বলার সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সবার দায়িত্ব।

সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ নীরব রয়েছেন। জুলাইয়ে এত মানুষ নিহত হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, অথচ তাদের বিষয়ে ওই অংশের কোনো বক্তব্য নেই।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিচার বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগের সততা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে প্রশ্ন তুলেছে, সেখানে মূলত আর্থিক দুর্নীতির দিকটিই সামনে এসেছে। কিন্তু বিচার বিভাগের সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি।

তাঁর মতে, আর্থিক দুর্নীতির তুলনায় বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতি বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে। তাই বিচার বিভাগের প্রকৃত সততা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় উভয় ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD