Logo

হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন: রিজভী

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০:১৩
হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি, কারখানায় অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীদের দায়ী করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী। তাঁর অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে শেখ হাসিনা উসকানি দিচ্ছেন এবং তাঁর রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে গার্মেন্টসে আগুন দেওয়া ও মানুষ হত্যা করানো হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ মাঠে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে র‌্যালিপূর্ব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনা করেছে এবং ওয়েজ বোর্ড নিয়েও আশ্বাস দিয়েছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা এখন আর আন্দোলনে নেই। যারা পুলিশের গাড়িতে আগুন দিচ্ছেন এবং আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে হত্যা করছেন, তারা শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া গুণ্ডা ও সন্ত্রাসী।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতাও রয়েছেন, যিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এর থেকেই প্রমাণিত হয়, এই মদদ ও উসকানি পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসছে।’

বিজ্ঞাপন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির এই নেতা বলেন, বেসিক ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। চট্টগ্রামের সাবেক এক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি ইংল্যান্ড সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, লুটপাটের সেই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই শেখ হাসিনা আবারও সন্ত্রাস ও উসকানির পথ বেছে নিচ্ছেন। তবে দেশের মানুষ এখন ঐক্যবদ্ধ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, দিনটি মানুষের মতপ্রকাশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করেছিল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করেছিল।

তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খন্দকার মোশতাকসহ আওয়ামী লীগের নেতারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন। পরে খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থানের পর দেশে যে অস্থির ও রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার সম্মিলিত ভূমিকা সেই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটায় এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন।

বিজ্ঞাপন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়েই ছাত্র-জনতা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের মানুষ মেনে নিয়েছিল। কারণ, তিনি একজন গুণী ব্যক্তি, যাঁকে শেখ হাসিনা একাধিকবার মিথ্যা মামলায় হয়রানি ও অপমান করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরুসহ দলটির জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD