নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও জড়ো হবে না: রাশেদ খাঁন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্ব ও দলটির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তিনি মন্তব্য করেছেন, নাহিদ ইসলাম এখন কোনো কর্মসূচির ডাক দিলেও ১০০ জন মানুষ জড়ো করা কঠিন হবে।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এনসিপি কেন একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে দলটির বর্তমান অবস্থার জন্য নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন রাশেদ খাঁন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘নাহিদ ইসলাম আন্দোলন চালিয়ে যেতে বললেন, কিন্তু গার্মেন্টস কর্মীরা কাজে ফিরে গেলেন! নাহিদ ইসলাম ডাক দিলে এখন ১০০ লোকও আর জড়ো হবে না। আশা করি, তিনি এর প্রমাণ পেয়ে গেছেন।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও লেখেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মহানায়কের কেন এই মহা অধঃপতন? কেন এনসিপি একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হলো? এর দায় কি নাহিদ ইসলাম এড়াতে পারেন?’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে নাহিদ ইসলাম ও তার অনুসারীদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কাজ করেছিল বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন।
এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘নাহিদ ইসলামরা মনে করেছিলেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে তারাই সব করেছিলেন! তারাই যে সব করেননি, সেটা তিনি যত বেশি অহংকারী হবেন, তত বেশি টের পাবেন।’
বিজ্ঞাপন
এনসিপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব ও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কারা রয়েছেন এবং কারা তাকে ছেড়ে যাচ্ছেন, সেটি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন কি না, তা জানতে চান রাশেদ খাঁন।
তিনি লেখেন, ‘নাহিদ ইসলামের সঙ্গে কারা থাকছে, আর কারা তাকে বর্জন করছে, তিনি কি উপলব্ধি করতে সক্ষম হচ্ছেন? যেখানে সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীদের ধরে রাখার যোগ্যতা তিনি হারিয়েছেন, সেখানে জনগণ কেন তার ডাকে মাঠে নামবে?’
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে রাশেদ খাঁনের বক্তব্যের দিনই এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
পদত্যাগের ব্যাখ্যায় সামান্তা শারমিন এনসিপির রাজনৈতিক অবস্থান ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট, দলের আদর্শ থেকে সরে যাওয়া, নারীর রাজনৈতিক অধিকার উপেক্ষা এবং সংগঠনের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার ঘাটতির বিষয়গুলো উল্লেখ করেন তিনি।
সামান্তা শারমিনের পদত্যাগ এবং এনসিপির নেতৃত্ব নিয়ে রাশেদ খাঁনের সমালোচনা—দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।








