সার্বিক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা


Janobani

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১:৪৬ পিএম, ৩০শে আগস্ট ২০২৫


সার্বিক পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে পুলিশ কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিজয়নগরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের লাঠিচার্জে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরসহ দলটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়েছে।


ঘটনার সময় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সামনে লাল শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে ছাত্রনেতা সম্রাটকে লাঠিপেটা করতে দেখা যায়। ওই ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ সদস্য দাবি করলেও তার নাম-পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।


এ পরিস্থিতিতে তোপের মুখে পড়া ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শনিবার (৩০ আগস্ট) জরুরি বৈঠকে বসেন।


গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের সামনে লাঠিচার্জ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক চলছে।”


ছাত্রনেতা সম্রাটকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে সিভিলে থাকা এক ব্যক্তি এলোপাথাড়ি মারধর করেন। তাকে আটক করা হয়েছে কিনা কিংবা তার নাম-পরিচয় জানা গেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”


এর আগে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর আল রাজী টাওয়ারের সামনে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হামলায় নুরুল হক নুরসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। ওই ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিবৃতি দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।


আরও পড়ুন জ্ঞান ফিরেছে নুরের


গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শনিবার (৩০ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লিখেছেন, “আমরা এক অত্যন্ত সংবেদনশীল গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময় অতিক্রম করছি, যার প্রথম পদক্ষেপ হলো জাতীয় নির্বাচন। তাই আজকের মতো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী ঘটনাগুলো যাতে ছড়িয়ে না পড়ে এবং গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত না হয়—সেটি আমাদের সম্মিলিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে।”


তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রকামী সব পক্ষ—যার মধ্যে বিএনপি ও এর জোটসঙ্গীরাও আছে—সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখবে। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের সত্যিকারের চেতনা বিজয়ী হতে হবে। দেশকে অবশ্যই দলবাজি, সহিংসতা ও বর্তমান অস্থিতিশীলতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে হবে।”


গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান দাবি করেন, নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।


শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের রাশেদ খান বলেন,

“আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেনাপ্রধানকে বক্তব্য দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে—তিনি এ ঘটনার নির্দেশ দিয়েছেন কি না। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টাকেও অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। আজ নুরুল হক নুরসহ আমাদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার পেছনে সরকারের নির্দেশনা ছিল কি না তা জাতির সামনে বলতে হবে।”


অন্যদিকে, গুরুতর আহত নুরুল হক নুরের জ্ঞান ফিরেছে। তার সিটিস্ক্যান করা হয়েছে।


শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তিনি চোখ মেলে তাকান। এরপরই তার সিটিস্ক্যান করানো হয়।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে নুরকে হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগের ওয়ান-স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রাত ১২টার দিকে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।


চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়ায় তাকে আইসিইউর ৯ নম্বর বেডে ভর্তি করা হয়। সকালে জ্ঞান ফেরার পর সিটিস্ক্যান করানো হয়। পরে আবারও তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।


নুরের চিকিৎসায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচ্চ পর্যায়ের ছয় সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “নুরুল হকের মাথায় আঘাত রয়েছে এবং তার নাকের হাড় ভেঙে গেছে। যে কারণে গতকাল অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এখন রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়েছে ও জ্ঞান ফিরেছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার আগে তাকে আশঙ্কামুক্ত বলা যাবে না।”


এসএ/