Logo

পেনশনের টাকার জন্য স্ত্রীর পরিকল্পনায় পুলিশ সদস্যকে হত্যা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ জুলাই, ২০২৬, ২০:১৫
পেনশনের টাকার জন্য স্ত্রীর পরিকল্পনায় পুলিশ সদস্যকে হত্যা
বাম পাশে (লম্বা) নিহত পুলিশ কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর | ডান পাশে মামলার আসামি (ওপরে বাঁ থেকে) সালমা বেগম, রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম মলি, ফজলে রাব্বি শুভ; (নিচে বাঁ থেকে) পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার ও রাফি খান | ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগের কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। পুলিশ বলছে, এটি ছিল দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ অনুযায়ী, স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এমনকি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পারিশ্রমিক পরিশোধের জন্য হুমায়ুনের মৃত্যুর পর প্রাপ্য পেনশনের অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনাও ছিল।

বিজ্ঞাপন

মামলার তদন্ত শেষ করে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওলাদ হুসাইন চলতি বছরের মার্চে আদালতে ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ১ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। এখন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগোবে।

তদন্তে উঠে এসেছে, হুমায়ুন কবীর ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে নিজের বাসার সামনে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হন। প্রথমদিকে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হলেও তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগমের সঙ্গে নিকটাত্মীয় রাজীব হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে সালিসও হয়। একই সময়ে সালমার এক আত্মীয়ের পরিবারের কাছে হুমায়ুনের ১০ লাখ টাকা পাওনা ছিল, যা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। তদন্তকারীদের মতে, এই দুই কারণই হত্যার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে কাজ করে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস ধরে হত্যার পরিকল্পনা চলে। প্রথমে ভাড়াটে খুনি খোঁজা হয় এবং ধাপে ধাপে আরও কয়েকজনকে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য দা, রশি, গ্লাভসসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও সংগ্রহ করা হয়। কয়েকবার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর পরিকল্পনা পরিবর্তন করে বাসার ভেতরেই হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার আগের দিন স্থানীয় একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ কেনা হয়। পরে হুমায়ুন বাসায় ফেরার পর তার খাবারের সঙ্গে সেই ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। গভীর রাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে কয়েকজন মিলে তার হাত-পা বেঁধে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, হত্যার সময় স্ত্রী সালমাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং স্বামীর পা চেপে ধরে রাখেন।

হত্যার পর মরদেহটি ভবনের নিচে নামিয়ে অন্যত্র ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আশপাশে লোকজন থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। পরে বাসার সামনেই মরদেহ ফেলে রেখে বাইরে থেকে বাসায় তালা লাগিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে তাৎক্ষণিকভাবে অল্প পরিমাণ অর্থ দেওয়া হলেও বাকি পারিশ্রমিক হুমায়ুন কবীরের মৃত্যুর পর পাওয়া পেনশনের টাকা থেকে পরিশোধ করার বিষয়ে পূর্বচুক্তি হয়েছিল। তবে তদন্তের অগ্রগতিতে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলায় হুমায়ুনের স্ত্রী সালমা বেগমসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন কারাগারে রয়েছেন, কয়েকজন জামিনে মুক্ত এবং চারজন এখনও পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আওলাদ হুসাইন বলেন, এটি একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ তদন্তে একাধিক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটনার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি সালমা বেগমের আইনজীবী জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র আদালতে জমা পড়েছে এবং বর্তমানে তার মক্কেল কারাগারে রয়েছেন। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD