Logo

৮ তলার ভবনে নানা ডিভাইস নিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কী করছিলেন?

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৪২
৮ তলার ভবনে নানা ডিভাইস নিয়ে ৬৩ বিদেশি নাগরিক কী করছিলেন?
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক। ভবনটিতে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিপুলসংখ্যক তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের দাবি, বাংলাদেশি একটি চক্রের সহযোগিতায় বিদেশিরা ওই ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারও কাছে পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। এসব নথি দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তাঁরা জানিয়েছেন। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ভবনটি থেকে ৬৩ বিদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের মধ্যে লাওসের ৩৫, পাকিস্তানের ২১, চীনের ৫, নেপালের ১ ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ মোট ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। থানার ওসি আবদুর রহিম জানান, শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

দেড় মাস আগে নেওয়া হয় ভবনটি

ফয়সাল আহম্মদ বলেন, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়েছে। সেখানে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালানো কঠিন হয়ে পড়ায় বাংলাদেশকে কার্যক্রমের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশীয় একটি চক্রের সহযোগিতায় প্রায় দেড় মাস আগে জালালাবাদের ওই আটতলা ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়। ভবনটির মালিক বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ভবনের ১৪টি ইউনিটে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত হতে পারে—এমন বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অন্য কোনো বৈধ পেশা বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণও দেখাতে পারেননি।

তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশের প্রক্রিয়া এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে তথ্য জানতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অতিরিক্ত কমিশনার।

চাকরির প্রলোভন, তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে, বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার কৌশল ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফয়সাল আহম্মদ। কখনো ওয়েবসাইট তৈরি করে, আবার কখনো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ।

এ ছাড়া ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য হ্যাক করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রতারণার সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত ছিল কিংবা মোট কত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

ফয়সাল আহম্মদের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে প্রাথমিকভাবে চক্রটির মাঠপর্যায়ের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের ঘটনায় মিল খুঁজছে পুলিশ

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে চীনের পাঁচজন ও তাইওয়ানের একজন নাগরিক ছিলেন। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছিল, রামু থানায় করা একটি অভিযোগের সূত্র ধরে ঢাকার পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই হোটেলে অভিযান চালানো হয়। পরে ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয় এবং আদালতের নির্দেশে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চীন ও তাইওয়ানের কয়েক শ নাগরিক কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ এলাকার দুটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ওঠে। তবে উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক আইফোন কী কাজে ব্যবহৃত হতো এবং প্রতারণার সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে তখন বিস্তারিত জানানো হয়নি।

কক্সবাজারের ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীর ৬৩ বিদেশির কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD