Logo

ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুই মামলা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ঠাকুরগাঁও
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:৩৯
ঠাকুরগাঁওয়ে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দুই মামলা
ফাইল ছবি।

ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে পুলিশ। মামলাগুলোতে রাতের আঁধারে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া, নাশকতার পরিকল্পনা এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দুটি করা হয়। পৃথক দুই মামলায় মোট ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৪৫ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা হয়েছে।

প্রথম মামলায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোলেমান গনি।

এজাহারে বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের তেলিপাড়ায় গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের সামনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় মহাসড়কে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা দিকবেদিক পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম ও ঠিকানা জানতে পারে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রথম মামলায় নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন—রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, এস এম সালমান, মাহাবুব, মো. ওসমান গনি, সিএম সাব্বির হাসান হৃদয়, আরাফাত হোসেন ওরফে রাব্বি, আবিদ হোসেন হৃদয় ওরফে গুড্ডু, বিধান রায়, মো. শাওন সাব্বির, স্বাধন, রাজু ওরফে ছোট রাজু, বড় রাজু, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, মো. খায়রুল ইসলাম ও মো. মনোয়ার হোসেন।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট এবং বড় ধরনের নাশকতা ঘটানোর উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই দিন রাত ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার আর্ট গ্যালারি ও সিঙ্গার শোরুমের সামনে আঞ্চলিক সড়কে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দ্বিতীয় মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলাটি করেন সদর থানার এসআই মনিরুজ্জামান। এজাহারে বলা হয়, ৩১ আগস্ট রাত ৯টার দিকে ওই এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী এবং তাঁদের অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতারা নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। রাত ৯টা ১০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে থাকা দুই ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় মামলায় ১৫ জনের নাম জানা যায়। তাঁরা হলেন—রয়েল বড়ুয়া, নিউমুন, এস এম সালমান, মাহাবুব, মো. ওসমান গনি, সিএম সাব্বির হাসান হৃদয়, আরাফাত হোসেন ওরফে রাব্বি, আবিদ হোসেন হৃদয় ওরফে গুড্ডু, বিধান রায়, মো. শাওন সাব্বির, বাধন, প্রীতম, স্বাধন, মো. রফিকুল ইসলাম রফিক ও অন্তর শেখ।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারেও আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে মামলায় করা অভিযোগের সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারিত হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD