বরিশালে পুলিশ হেফাজতে মাদক মামলার আসামি নারীর মৃত্যু

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে বরিশাল আদালতে নেওয়ার পথে আদালত চত্বরের সামনে সড়কে মাহিন্দ্রা গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আসছে থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নাদিয়া বেগমকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার সকালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন, মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৫৪০ টাকা এবং ছয় পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নাদিয়ার পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেন, নাদিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছে থাকা ইয়াবা তিনি গিলে ফেলেন। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন ওসি।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, নাদিয়ার স্বামী মন্ঠু গাজীর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। নাদিয়ার ছেলের বিরুদ্ধেও দুটি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশের দাবি, মন্ঠু দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এর অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জেলহাজতে পাঠানোর আগে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।”
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, “মাদকসহ কেউ আটক হলে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা ছড়ায়। নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং পুলিশ হেফাজতে তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।”
নাদিয়া বেগমের আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।








