Logo

দম্পতির ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
আদিতমারী, লালমনিরহাট
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৩:০৮
দম্পতির ক্ষুদ্র পোশাক কারখানায় শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান
ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের তালুক দুলালী পাগলার চওড়া এলাকায় স্বামী-স্ত্রীর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে একটি ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা। প্রত্যন্ত গ্রামের এই কারখানাটি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে স্থানীয় শতাধিক নারীর জন্য।

বিজ্ঞাপন

একসময় কাজ করার আগ্রহ থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেক নারীকে ঘরেই বসে থাকতে হতো। পরিবারের বাড়তি আয়ে ভূমিকা রাখার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগের অভাবে তা সম্ভব হয়ে উঠত না। তাদের কেউ সেলাই জানতেন, কেউ কাপড় কাটার কাজ জানতেন, আবার কেউ ছিলেন নতুন কিছু শেখার প্রবল আগ্রহী।

সেই নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতির গড়ে তোলা এই কারখানা। নিজেদের বসতবাড়িতেই স্বল্প পরিসরে শুরু করা উদ্যোগটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে স্থানীয় প্রায় শতাধিক নারী বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কারখানাটিতে চলে পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপের কাজ। কেউ কাপড়ে রং করেন, কেউ কাপড় কাটেন, আবার কেউ পোশাকে বিভিন্ন নকশা আঁকা ও অলংকরণের কাজ করেন।

কারখানার উদ্যোক্তা আসাদুল হাবিব ও শিউলি বেগম দম্পতি জানান, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তারা ঢাকায় পাড়ি জমান। সেখানে পোশাক তৈরির কাজ করে আয় করতেন তারা। তবে গ্রামের প্রতি টান থেকে বেশিদিন ঢাকায় থাকা হয়নি। পরে নিজ এলাকায় ফিরে এসে নতুন কিছু করার উদ্যোগ নেন।

নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এলাকার বেকার নারীদের কাজের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তারা অল্প পুঁজি দিয়ে কারখানাটি শুরু করেন। নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে বর্তমানে তাদের উদ্যোগ ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও বেকার নারীকে এই কর্মযজ্ঞে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

উদ্যোক্তা দম্পতি বলেন, “প্রথমে স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই কাজ শুরু করেছি আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেয়ে এখন আমাদের কারখানায় প্রায় শতাধিক নারী কাজ করছেন। আমাদের কারখানায় তৈরি হয় জামা, ওরনা, থ্রী পিস সহ নারীদের নানা ধরনের পোশাক এগুলো বিভিন্ন শহরের মার্কেট থেকে অর্ডার আসে সেখানে সাপ্লাই দেওয়া হয়।”

কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিক আনিছা খাতুন বলেন, “আগে কাজের জন্য রোদে পুড়তে হয়েছে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে কখনও কাজ পেয়েছি কখনও পাইনি এখন নিজের এলাকার এই কারখানায় কাজ করে আমার সংসার অনেক ভাল চলছে।”

আরেক নারীশ্রমিক রিয়া আক্তার বলেন, “আগে আমরা ঘরেই বসে থাকতাম এখন আমরা এই কারখানার কাপড়ে বুটিকের কাজ করে দেই চুমকি লাগাই, এই কাজে আমাদের কারখানাতেও আসতে হয় না নিজের ঘরে বসে কাজ করি কাপড়ে বুটিক লাগানো হলে এসে জমা দিয়ে যাই,নিজ এলাকায় থেকে ঘরে বসে আয় করার একটি ভাল মাধ্যম পেয়েছি।”

বিজ্ঞাপন

ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল করিম বলেন, “আমাদের অবহেলিত অঞ্চলে এই রকম ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা চালু হয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যান্ত আনন্দের এই কারখানায় কাজ করে অনেক বেকার নারীরা তাদের পরিবারে অর্থ যোগান দিতে পারবে, আমরা চাই সরকার এই সকল ক্ষুদ্র কারখানায় নজর দিয়ে বৃহৎ পরিসরে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন, “গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন ক্ষুদ্র পোশাক কারখানা গড়ে তোলে বেকার নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ।”

তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের কারখানার উদ্যোক্তাগন আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”

বিজ্ঞাপন

প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্প পুঁজিতে গড়ে ওঠা এই পোশাক কারখানাটি শুধু উদ্যোক্তা দম্পতির আত্মকর্মসংস্থানই তৈরি করেনি, বরং স্থানীয় নারীদের জন্যও আয়ের একটি স্থায়ী সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ফলে ঘরের কাজের পাশাপাশি নিজেরাই আয় করে পরিবারে অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন অনেক নারী।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD