সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের ৬ মামলা

করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসা ও সুরক্ষাসামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় মোট ১২ কোটি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৯৮৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। পৃথক ছয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা করার সুপারিশের পর কমিশন এসব মামলার অনুমোদন দেয়।
জাহিদ মালেক ছাড়া মামলাগুলোর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কোভিড-১৯ প্রকল্পের পরিচালক ডা. মো. ইকবাল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আনোয়ার সাদাত এবং মেডিকেল অফিসার ডা. অনির্বান সরকার।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও মামলাগুলোর আসামি হয়েছেন। তারা হলেন জাদিদ অটোমোবাইলসের প্রোপাইটর কাজী শামীমুজ্জামান, ই-মিউজিকের প্রোপাইটর হোসনী ইব্রাহিম, ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের প্রোপাইটর রইসুল কবীর, ইনশা ট্রেড করপোরেশনের প্রোপাইটর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মোস্তফা মনোয়ার এবং এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেডের প্রোপাইটর সাইফুর রহমান।
বিজ্ঞাপন
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০বি ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রথম মামলায় জাহিদ মালেকসহ আটজনের বিরুদ্ধে ইআরপিপি প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-০১-এর আওতায় কে এন ৯৫, এ এন ৯৫ মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস কেনায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-১৩-এর আওতায় পাঁচ ও তিন ফাংশনের ইলেকট্রিক হাসপাতাল বেড কেনায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তৃতীয় মামলায় জাহিদ মালেকসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-০৫-এর আওতায় করোনা মহামারিতে ব্যবহারের জন্য কে এন ৯৫ মাস্ক কেনায় ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
চতুর্থ মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ এসডি-০২-এর আওতায় জনসচেতনতা, শিক্ষা, ঝুঁকি যোগাযোগ ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে টিভিসি প্রচারের জন্য সেবা কেনায় অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। দুদকের দাবি, টিভিসি প্রচার না করেই ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পঞ্চম মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-০৮-এর আওতায় হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার, কে এন ৯৫ মাস্কসহ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ এসডি-০১-এর আওতায় ‘করোনাবিড মোবাইল অ্যাপ’ ও ‘ন্যাশনাল করোনা কেয়ার সিস্টেম সেন্ট্রাল ওয়েব-অ্যাপ্লিকেশন’ সেবা কেনায় ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণ করে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
দুদক জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি পণ্য ও সেবা কেনার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ইআরপিপি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন করোনা সামগ্রী ও সেবা কেনা হয়েছিল।
পরবর্তীতে এসব কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধান শেষে কর্মকর্তারা পৃথক ছয়টি মামলা করার সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর কমিশন ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে।








