রাউজানে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি, আহত ১২ সদস্য

চট্টগ্রামের রাউজানে পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিলদার হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার হেফাজত ও দেখানো জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলার ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় অভিযানটি চালানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দিলদার হোসেন ওই এলাকার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, মো. জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। বুধবার রাতে কদলপুরের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে পুলিশ পৌঁছালে ভেতরে থাকা কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। গোলাগুলিতে এসআই জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই খোরশেদ আলম, এসআই বায়েজিদ মৃধা, এসআই জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস ও এএসআই রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযানের একপর্যায়ে দিলদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। তবে জানে আলম, আজিজ বস, রুবেল, মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন, বাঁচাসহ অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, দিলদারের হেফাজত ও তার দেখানো স্থান থেকে একটি দোনলা বন্দুক, একটি একনলা কাটা বন্দুক, চায়না রাইফেলের ১১৯ রাউন্ড গুলি, ছয় রাউন্ড সীসা কার্তুজ, চারটি রামদা, দুটি কটি ও দুটি গুলি রাখার প্রসেস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দিলদার ও তার পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দিলদার হোসেনের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।








