Logo

তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন: পুলিশ

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০
তাজমিনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাচালক সুমন: পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন কিশোরীকে ভুল পথে নিয়ে নির্জন স্থানে ধর্ষণ করেন এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাজমিন কুমিল্লা রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন। কিন্তু পদুয়ার বাজার থেকে শহরের দিকে না গিয়ে চালক তাঁকে নিয়ে বিজরার দিকে চলে যান। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সুমন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। তাজমিন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও পরে সুমন তাঁকে কাবু করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি। পরে পাশের এলাকার একটি পুকুরে গোসল করেন এবং তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। ফোনটি একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামের দিকে চলে যান।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন নম্বর ধরে তদন্ত শুরু করা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা পুলিশ চট্টগ্রাম নগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে জবানবন্দি দেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতে তোলার পর বিষয়টি বোঝা যাবে।

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় তাজমিনের মরদেহ

গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সে আর স্কুলে যায়নি।

তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারটি কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। বাবা তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি।

বিজ্ঞাপন

পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়। পরে তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD