উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে বিতর্কে জুয়েল, সার্জেন্টের জিডি

রাজধানীতে উল্টো পথে গাড়ি চালানোর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আহসান হাবীব জুয়েলের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার আংশিক ভিডিও প্রকাশ করে পুলিশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে জুয়েলের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সার্জেন্ট মো. মহিউদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি জানান সার্জেন্ট মহিউদ্দিন।
জুয়েল তার ফেসবুক পেজে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সার্জেন্টের সঙ্গে তর্কে জড়িয়েছেন তিনি। একপর্যায়ে নিজের গাড়িতে বিআরটিএর নম্বর প্লেট না থাকার বিষয়টি সামনে এনে পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন এবং ঘটনাটি ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এ সময় সার্জেন্ট ও বিআরটিএর বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিতে শোনা যায় তাকে।
তবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস আসাদগেট পাম্প থেকে উল্টো পথে সড়ক অতিক্রম করে। ওই স্থানে ‘রাস্তায় প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড ছিল। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনের ৮৭ ধারায় গাড়ির মালিক জুয়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেন সার্জেন্ট মহিউদ্দিন।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সার্জেন্ট মহিউদ্দিন বলেন, ‘নম্বর প্লেট না থাকার পরও আমি মানবিক বিবেচনায় ৭২ ধারায় প্রসিকিউশন না দিয়ে সর্বনিম্ন জরিমানার ধারা ৮৭ অনুযায়ী প্রসিকিউশন জমা করি। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ও আমার সঙ্গে থাকা ফোর্সের সদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং তার কনটেন্টে ভুল তথ্য পরিবেশন করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নাকি অন্য কিছু, তা আমার জানা ছিল না। আইন সবার জন্য সমান। আমি আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। পরে ফেসবুকে ঢুকে দেখি, তিনি পুরো ঘটনা ভিডিওতে না দেখিয়ে কিছু অংশ তুলে ধরেছেন। উল্টো পথে আসার বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করেননি। নিজের ভুল আড়াল করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছেন।’
সার্জেন্ট মহিউদ্দিনের ভাষ্য, ‘এতে আমি ব্যক্তিগতভাবে হেয় হচ্ছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশের কার্যক্রমকেও নেতিবাচকভাবে দেখানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আমি পুলিশ কন্ট্রোল রুমে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি।’
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে জুয়েল বলেন, ঘটনাটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছিল। পুলিশ সদস্যরা তাকে বারবার ভিডিও ধারণ করতে নিষেধ করেছিলেন।
সার্জেন্টকে হেনস্তা করার অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই পুলিশ সার্জেন্টকে হেয় বা হেনস্তা করতে চাইনি। আমার আচরণে যদি তিনি কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। কারণ, পুলিশ সদস্যরা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করে সাধারণ মানুষকে সেবা দেন।’








