Logo

সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ১১২১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬:৫৭
সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে ১১২১ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা
সালমান এফ রহমান | ফাইল ছবি

জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) সুবিধা নিয়ে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ৬৯ জনের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন মামলায় আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে মোট ১ হাজার ১২১ কোটি ৪৯ লাখ ৪ হাজার ৭৫৫ টাকার অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ নভেম্বর) দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য জানান। অনুমোদিত তিন মামলার প্রতিটিতে আসামির সংখ্যা যথাক্রমে ২২, ২২ ও ২৫ জন। তবে ১৩ জনের নাম তিন মামলাতেই থাকায় পৃথক আসামির সংখ্যা ৩১ জন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের মাধ্যমে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলস লিমিটেড, আরবান ফ্যাশনস লিমিটেড ও মিডওয়েস্ট গার্মেন্টস লিমিটেডের নামে ঋণ এবং ইডিএফ সুবিধা নেওয়া হয়। পরে ভুয়া আমদানি-রপ্তানির তথ্য দেখিয়ে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

তিনটি মামলার মধ্যে স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের নামে ১৪১ কোটি ২৮ লাখ ১ হাজার ১৭১ টাকা, আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪১৭ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬ টাকা এবং মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুনভাবে গঠিত হওয়ার পরও তাদের নামে ঋণ ও ইডিএফ সুবিধা অনুমোদন করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের আগে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। পরে নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের ক্ষেত্রে ১ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার ৫৮২ মার্কিন ডলারের কথিত বিল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীতে দেশে এসেছে মাত্র ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৯২ ডলার। বাকি ১ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ১৯০ ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ করেছে দুদক।

আরবান ফ্যাশনসের নামে ৪ কোটি ৯০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ ডলার বা প্রায় ৪১৭ কোটি ৪ লাখ টাকার পেমেন্ট নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের দাবি, নিজেদের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির লেনদেন দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরে নগদ উত্তোলনসহ বিভিন্ন উপায়ে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে।

মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের নামে ৬ কোটি ৬২ লাখ ৫৫ হাজার ২৮৮ ডলার বা প্রায় ৫৬৩ কোটি ১৭ লাখ টাকার পেমেন্ট নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার দেশে ফেরত আসেনি বলে জানিয়েছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে ভুয়া আমদানি-রপ্তানির তথ্য দেখিয়ে ৫৬৩ কোটি ১৬ লাখ ৯৯ হাজার ৫২৭ টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তিন মামলায় সালমান এফ রহমান, তাঁর ছেলে এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক, সংশ্লিষ্ট পোশাক কারখানাগুলোর দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে জনতা ব্যাংকের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে।

স্প্রিংফুল অ্যাপারেলসের মামলায় ২২ জনের মধ্যে সালমান এফ রহমান ও এ এস এফ রহমান ছাড়াও বেক্সিমকো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কে চৌধুরী এবং পরিচালক ইকবাল আহমেদ, এ বি সিদ্দিকুর রহমান, মাসুদ ইকরামুল্লাহ খান, শাহ মঞ্জুরুল হক ও রীম এইচ শামসুদ্দোহা রয়েছেন। এ মামলায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম, পরিচালক কোহিনুর আবেদিন এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার নামও রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আরবান ফ্যাশনসের মামলায় ২২ জনের মধ্যে সালমান এফ রহমান, এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের কয়েকজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আরবান ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল উদ্দিন এবং পরিচালক সাহিদা রহমান রয়েছেন। এ ছাড়া ক্রিসেন্ট এক্সেসরিজ লিমিটেড ও আরআর গ্লোবাল ট্রেডিং এফজেডইর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং জনতা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে।

মিডওয়েস্ট গার্মেন্টসের মামলায় ২৫ জনের মধ্যে সালমান এফ রহমান, এ এস এফ রহমান, বেক্সিমকো লিমিটেডের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাইমিনুল ইসলাম ও পরিচালক কোহিনুর আবেদিন রয়েছেন। এ মামলায় জনতা ব্যাংকের সাবেক সিইও ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুছ ছালাম আজাদ, সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বারসহ ব্যাংকটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুদকের অনুমোদন অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ৪৭৭এ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হবে।

এদিকে সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে শেয়ারবাজারে জালিয়াতি, প্লেসমেন্ট শেয়ার কারসাজি, প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD