তফসিলের আগেই আসন ভাগাভাগি চায় বিএনপির মিত্ররা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে গতি বেড়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের জোট রাজনীতিতে।
বিজ্ঞাপন
মিত্র দলগুলো এখনই নিজ নিজ আসনে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে, যেন নির্বাচনী মাঠে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে নামতে পারে এবং বিএনপির নেতাকর্মীরাও তাদের সহায়তা করতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত কেবল অল্প কয়েকজন মিত্রই মনোনয়নের নিশ্চয়তা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিকদের প্রার্থী তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে। এ পর্যন্ত ১০৩ জন প্রার্থীর নাম এসেছে বিএনপির কাছে। যেগুলো এখন লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে আছে। তিনি প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের শক্তি বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিজ্ঞাপন
তালিকা অনুযায়ী, ১২ দলীয় জোটের ২১ জন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের ৯ জন, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের ১৯ জন, এলডিপির ১৩ জন, গণফোরামের ১৬ জন, এনডিএমের ১০ জন, বিএনপি-বিজেপির পাঁচজন, লেবার পার্টির ছয়জন এবং বিপিপির চারজন প্রার্থী প্রার্থী তালিকা দিয়েছে। তবে এখনো গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণঅধিকার পরিষদ তাদের তালিকা দেয়নি; তারা যথাক্রমে ৫০ ও ৩০ জনের নাম দিতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, আসন বণ্টনের কাজটি বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। কারণ, সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী জোটের প্রার্থীদের নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে বিএনপি গভীরভাবে ভাবছে এবং প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হবে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তার শরিকদের ৫৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় জামায়াত ইসলামিকেই বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিএনপি নতুনভাবে বাম ও ইসলামি ধারার কয়েকটি দল, এমনকি এনসিপির মতো উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিকেও পাশে টানতে চায়।
বিজ্ঞাপন
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার শরিকদের জন্য প্রায় ৫০টি আসন ছাড়ার পরিকল্পনা আছে বিএনপির। তবে জোটের আকার বড় হলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শক্ত প্রার্থী, স্থানীয় জনপ্রিয়তা এবং বিজয়ের সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
১২ দলীয় জোটের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেছেন, বিএনপি যত দ্রুত মিত্রদের জন্য আসন চূড়ান্ত করবে, প্রার্থীরা তত দ্রুত নির্বাচনী মাঠে প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এতে জোটের ঐক্য আরও শক্ত হবে।
বিজ্ঞাপন
নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ অনুযায়ী ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষিত হওয়ার কথা। তাই বিএনপি ও তার মিত্ররা নভেম্বরের মধ্যেই আসন ভাগাভাগির সব প্রক্রিয়া শেষ করতে চায়।








