এনসিপি ছাড়ায় ফেরত চাওয়া হচ্ছে টাকা, যা জানালেন তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের পর গণ-অনুদান বা ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দলটির সাবেক আলোচিত নেত্রী তাসনিম জারা। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এনসিপিতে থাকা অবস্থায় নির্বাচনের জন্য সংগৃহীত অনুদানের অর্থ যারা ফেরত চাইবেন, তাদের প্রত্যেকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
সম্প্রতি তাসনিম জারা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। তবে তার জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা বাতিল ঘোষণা করায় বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি ইতোমধ্যে আপিল প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে, এনসিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাসনিম জারা আগে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’-এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। দল থেকে সরে দাঁড়ানোর পর অনেক অনুদানদাতা তাদের দেওয়া অর্থ ফেরত চাইছেন। এ প্রেক্ষাপটে শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি অনুদানদাতাদের উদ্দেশে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিজ্ঞাপন
ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা বলেন, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ই তিনি পরিষ্কারভাবে জানিয়েছিলেন— কেউ যদি এনসিপি থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণে অনুদানের টাকা ফেরত চান, তাহলে তা অবশ্যই ফেরত দেওয়া হবে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ২০৫ জন অনুদানদাতা বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ ফেরত চেয়েছেন এবং তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, যারা ভবিষ্যতে টাকা ফেরত নিতে চান, তাদের জন্য একটি ফর্মের লিংক ভিডিওর ক্যাপশন ও মন্তব্য অংশে দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ বা বিভ্রান্তির সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মনোনয়নপত্র বাতিলের প্রসঙ্গে তাসনিম জারা বলেন, অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তিনি আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না। তবে তিনি এ বিষয়ে আশাবাদী।
তার ভাষায়, আপিলে বলার মতো শক্ত যুক্তি ও আইনি নজির রয়েছে এবং তিনি বিশ্বাস করেন, আপিলের মাধ্যমে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে আসবে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিরাশ না হওয়ার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি দল থেকে পদত্যাগ করেন। এরপরই তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।








