জেল থেকে লাশের মতো বের হতে হয়েছে: সুরভী

চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে সদ্য জামিনে মুক্তি পাওয়া জুলাই আন্দোলনের কর্মী তাহরিমা জান্নাত সুরভী অভিযোগ করেছেন, তাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই ১১ দিন কারাগারে রেখে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সুরভী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি একজন সাধারণ, অরাজনৈতিক নাগরিক হিসেবে দেশের স্বার্থে বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছেন। অথচ সেই কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
সুরভী জানান, গ্রেপ্তারের পর তাকে গাজীপুর জেলা মহিলা কারাগারে নেওয়া হয়। রোববার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন মঞ্জুর হওয়ার কথা থাকলেও তাকে রিমান্ডে পাঠানো হয়। রিমান্ড শেষে পুনরায় আদালতে হাজির করলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুক আবারও রিমান্ড আবেদন করেন।
তিনি বলেন, তার আইনজীবীরা আদালতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন যে মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেটের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা নিজেই স্বীকার করেন, জবানবন্দি ছাড়া অন্য কোনো প্রমাণ নেই। এরপরও দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সুরভী আরও বলেন, তার বয়স মাত্র ১৭ বছর এবং সামনে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল— এই বিষয়গুলো আদালতকে জানানো হলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। অবশেষে জামিন পেলেও ১১ দিন পর তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় কারাগার থেকে বের হন। তার ভাষায়, “জেল থেকে আমাকে লাশের মতো বের হতে হয়েছে। আমার কাছে জেল মানেই ছিল নির্যাতন।”
বিজ্ঞাপন
তিনি অভিযোগ করেন, মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মারধর ও চুরিসহ ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলোর কোনোটির সঙ্গেই তিনি জড়িত নন। তার দাবি, বারবার রিমান্ড চাওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ আদায়।
সুরভী আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে ‘উপর মহলের নির্দেশ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই কীভাবে মামলা হয় এবং একজন ১৭ বছরের কিশোরীকে কীভাবে রিমান্ডে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে তিনি কারাগারে আরেক শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তানজিলা তাবাসসুমের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার দাবি, তানজিলাকে এমনভাবে আটক রাখা হয়েছে যে তার পরিবার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউই তার অবস্থান সম্পর্কে জানে না। সুরভীর ভাষায়, “আমাদের মতো প্রতিবাদীদের কণ্ঠ রোধ করতেই কি এভাবে আটক রাখা হচ্ছে?”








