আল্লাহর ওপর বিশ্বাস ছিল, অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: মান্না

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর স্বস্তি ও দৃঢ়তার কথা জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও দলীয় প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় মান্না বলেন, তার বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল—এই ষড়যন্ত্র টিকবে না।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে মান্না বলেন, প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য কাউকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়া নয়; বরং কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, মনোনয়নপত্রে ত্রুটি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন করা যায়। এমনকি হলফনামায় ভুল থাকলেও সম্পূরক হলফনামা দাখিলের বিধান রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, আমি আগেও বগুড়া থেকে নির্বাচন করেছি, এবারও করছি। অথচ আমাকে প্রতিহত করতে যে ধরনের কূটকৌশল নেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অশুভ বার্তা দেয়। পরিস্থিতির চাপে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে; না হলে মনোনয়ন বাতিলের কোনো যৌক্তিক কারণ ছিল না।
গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মান্না বলেন, রক্ত ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত গণতান্ত্রিক অধিকারকে এভাবে উপহাস করা দুঃখজনক। ক্ষমতার লড়াইয়ে এমন অপচেষ্টা কখনো গণতন্ত্রের পথ দেখাতে পারে না। দল বা ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোক, গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে সমষ্টির কাছে ছোট হতে হয়—এই মানসিকতা ছাড়া গণতন্ত্র কার্যকর হতে পারে না।
ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, তাকে খেলাপি প্রমাণের যে চেষ্টা করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি ভিত্তিহীন। ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া বড়গোলা শাখার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে একটি ভুয়া নোটিশ তৈরি করা হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়েন এবং তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ ও বদলি করা হয়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমে যথাযথভাবে আসেনি বলে তিনি আক্ষেপ করেন।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে মান্না বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কাউকে হারানোর চেষ্টা রাজনীতির শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না। ষড়যন্ত্র করে জয়ী হওয়া যায় না; গণতন্ত্রের লড়াই দীর্ঘ হলে অপচেষ্টা ব্যর্থ হবেই—আজকের সিদ্ধান্ত তারই প্রমাণ।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, কমিশন অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক। তবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শঙ্কার কথাও জানান তিনি। অনেক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় নেই, যা উদ্বেগের কারণ।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির সমর্থন প্রসঙ্গে মান্না বলেন, এখনো তাদের ঘোষিত প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। তবে যেহেতু তাকে আগে সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।








