Logo

জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অস্থিরতা

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৩:৪০
জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে অস্থিরতা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দলটির সঙ্গে জোটবদ্ধ বিভিন্ন দলের নেতারা অংশগ্রহণ করেছেন। বৈঠকের বিষয়ে জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে জামায়াত অফিসের একজন স্টাফ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈঠকের একটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে জামায়াতের নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চাঁদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমাদ আব্দুর কাদেরসহ অন্যান্য নেতাদের দেখা গেছে। তবে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলনের কোনো নেতা উপস্থিত ছিলেন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিসের মধ্যে একই ধরনের অস্থিরতা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল (১৪ জানুয়ারি) ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ আসন সমঝোতা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন, কিন্তু পরে অনিবার্য কারণে তা স্থগিত করা হয়।

জামায়াত জানায়, ইসলামী আন্দোলনের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে, যদিও ইসলামি আন্দোলন পৃথকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

গত বছরের ৮ ডিসেম্বর থেকে আট দলের মধ্যে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও আমার বাংলাদেশ পার্টি জোটে যোগ দেয়। দলগুলো স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জোটের কয়েকটি দল শুরুর দিকে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে আসন সমঝোতার নীতি মানলেও, পরবর্তীতে কিছু দল নির্দিষ্ট আসন দাবি করতে শুরু করে। ইসলামী আন্দোলন ৭০টির বেশি আসনের দাবি করলে, জামায়াত সর্বোচ্চ ৪০-৪৫টি আসন দিতে রাজি হয়েছে। খেলাফত মজলিস ২৫টি আসন চাইলেও জামায়াত সর্বোচ্চ ১৫টি আসন দিতে চায়। অন্য নয়টি দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হলেও ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসের সঙ্গে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি।

জোটের অভ্যন্তরে অস্থিরতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বগুড়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নূর মোহাম্মদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে। তিনি লেখেন, হ্যাঁ, সত্য এটাই— ১১ দলের সমঝোতা ভেঙে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নূর মোহাম্মদ আরও জানান, ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের মজলিসে শুরা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীদের সঙ্গে মতামত নিয়ে দেখেছেন, অধিকাংশ সদস্য জোটের সমঝোতা থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের দাবি, আসন সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলনকে চূড়ান্তভাবে ৪৫টি আসন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাদের দাবি ছিল ৬৫-৭০টি আসনের। নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাঠামো এবং দায়িত্ব ভাগাভাগি বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাপের কারণে শীর্ষ নেতৃত্বও কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD