ঢাবির শিক্ষাজীবনে রাজনীতির কালো ছায়ার শিকার তারেক রহমান

তারেক রহমানের শিক্ষাজীবন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে এসেছে কেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান হওয়া সত্ত্বেও তার শিক্ষাজীবন রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং রাষ্ট্রীয় বাধার কারণে ব্যাহত হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তার বয়স মাত্র তিন বছর। স্বাধীনতার সময় তার পরিবারকে রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। কৈশোরেই তিনি বাবাকে হারান এবং এই দমন-পীড়নের পরিবেশ তার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনকে প্রভাবিত করে।
তারেক রহমান ঢাকা বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং পরে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে স্থানান্তরিত হন। স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। তবে সে সময়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং স্বৈরাচারী শাসনামলে ছাত্রসংগঠন ও বিরোধী আন্দোলন তীব্রভাবে চলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা ব্যাহত হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম বলেন, ১৯৮০-এর দশকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ এতটাই উত্তাল ছিল যে অনেক রাজনীতিবিদ ও তাদের পরিবার শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারেননি। তারেক রহমানও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও রাষ্ট্রীয় পরিস্থিতির কারণে ডিগ্রি শেষ করতে পারেননি। এটি তার শিক্ষাগত দক্ষতা বা যোগ্যতার অভাব বোঝায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষার্থী ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্র শেখর চক্রবর্তী বলেন, ক্লাস ও পরীক্ষা সময়মতো হত না। রাজনৈতিক আন্দোলন, ধৈর্যহীন সেশনজট এবং হল দখল নিয়ে সংঘর্ষ পড়াশোনার স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা ভেঙে দিয়েছে। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমান গৃহবন্দিত্ব এড়াতে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
বিজ্ঞাপন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন বিষয়টি ‘টারময়েল’ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ব্যবহার, গোলাগুলি এবং রাজনৈতিক সংঘাত সাধারণ ঘটনা ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের জন্য নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়া ছিল বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন এবং বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের শিক্ষাজীবনের ব্যাহত হওয়া স্বাভাবিক।
বিজ্ঞাপন
অধ্যাপক মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি থাকা বা না থাকা চূড়ান্ত বিষয় নয়। তারেক রহমানের নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তার শিক্ষাজীবনের অনুপস্থিতি পূরণ করেছে।








