Logo

ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন ফাঁকা রাখল জামায়াতসহ ১০ দল

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৮:৫৭
ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৫০ আসন ফাঁকা রাখল জামায়াতসহ ১০ দল
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে সঙ্গে নেওয়ার আশায় জাতীয় সংসদের ৫০টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫০ আসনে প্রার্থী সমঝোতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১০টি রাজনৈতিক দল। এই সমঝোতার নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’।

বিজ্ঞাপন

জোটের নেতারা জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করতেই আপাতত সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা না করে অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠকে বসেন ১০ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে কোন দল কতটি আসনে প্রার্থী দেবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ২৫০ আসনের প্রার্থী তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে জোটে আনতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতা ও রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে। তিনি ইতোমধ্যে চরমোনাই পীরসহ ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে খেলাফত মজলিসের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মোহাম্মদ মুনতাসির আলি সাংবাদিকদের জানান, আপাতত ৫০টি আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তারা জোটে যোগ দিলে ওই আসনগুলো তাদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা না এলে পরবর্তীতে ওই আসনগুলোতেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

এদিকে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব মামুনুল হককে দেওয়া হয়েছে এবং আলোচনা এখনো চলমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত সমঝোতার মাধ্যমে ইসলামী আন্দোলন জোটে যুক্ত হবে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠক শেষে মামুনুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ১০ দলের উপস্থিতিতে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও যোগাযোগ হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য রাতের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইসলামী আন্দোলনকে নিয়েই আসন ঘোষণা সম্ভব হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় এই জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং জনগণের মধ্যেও এ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রত্যাশিত। মতভিন্নতা থাকলেও তা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং জোট অটুট রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, ৩০০ আসনেই জোটের প্রার্থী দেওয়া হবে, কোনো দল এককভাবে প্রার্থী দেবে না। জোটের সব দল পরস্পরকে সহযোগিতা করবে।

বিজ্ঞাপন

একই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জোটের ভেতরে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে কোনো সংকট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মতবিনিময় ও মতপার্থক্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। চূড়ান্ত বক্তব্য রাত ৮টায় সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বৈঠক শেষে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ১১ দলের বৈঠকে তারা একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্মারক নির্ধারণ, যোগ্য ও দক্ষ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার, দলগুলোর মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন এবং কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাতের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসবে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানিয়েছে, সমঝোতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইসলামপন্থিদের ‘একবক্স’ নীতির ভিত্তিতে যে ঐক্যের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিকে জানানো হবে।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান বলেন, বৈঠকের খবর তারা সকালেই পেয়েছেন, ফলে প্রস্তুতি নিয়ে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জামায়াতসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে এবং জোট থেকে আলাদা হওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য ঐক্যের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে ঘিরে জোট রাজনীতিতে এখনো আলোচনা ও অপেক্ষার পর্ব চলমান। ১১ দলীয় এই নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারিত হবে পরবর্তী আলোচনার মধ্য দিয়েই।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD