জোট ভাঙনের পর ফেসবুকে জামায়াত আমিরের ‘রহস্যময়’ পোস্ট

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটে বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ‘রহস্যময়’ পোস্ট দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে না থেকে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই তার এই ফেসবুক পোস্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি করেছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে জামায়াত আমির লেখেন, ধৈর্যের পরীক্ষাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন। অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করুন। তাহলে আল্লাহ তা’আলাও আপনার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন, ইনশাআল্লাহ।
এর আগে বৃহস্পতিবার জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে ঘোষণা দেয়। সে সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য কিছু আসন খালি রাখার কথাও জানানো হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ওই ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না ইসলামী আন্দোলন।
বিজ্ঞাপন
এই অনুপস্থিতির পরই রাজনৈতিক মহলে ধারণা জোরালো হয় যে দলটি জোট থেকে সরে যেতে পারে। সেই ধারণা সত্যি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শুক্রবার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জানায়, তারা জোটে থাকবে না এবং এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। একই সঙ্গে তারা জামায়াতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগও তোলে।
ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা কিংবা রাজনৈতিক আলোচনায় কোনো দলকে অসম্মান বা চাপ দেওয়া হয়নি। স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় ধাপে ধাপে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। এ লক্ষ্যে লিয়াজোঁ কমিটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরিপ পরিচালনা করে। আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয় বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে কোনো পক্ষের ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই সাক্ষাৎ ছিল বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সহানুভূতি প্রকাশের জন্য। সেখানে জাতীয় সরকার গঠন বা এ ধরনের কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার আলোচনা হয়নি। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তা নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়।
বিজ্ঞাপন
শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা বলেন, বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলের অবস্থান স্পষ্ট—বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে, এ নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক না হওয়া নিয়ে ‘অসম্মানজনক আচরণ’-এর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট এক নেতার অসুস্থতা ও অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে কষ্ট পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে আগেই দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
জোট ভেঙে গেলেও আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় এখনও আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে লিয়াজোঁ কমিটি ও শীর্ষ নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
বিজ্ঞাপন









