১৬ বছর পর দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে: নাহিদ

দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ১০ দলীয় জোট মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা যেন ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর শাহজাদপুর বাঁশতলা, নূরের চালা বাজার, নবধারা সড়ক ও একতা সড়ক এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেক বছর পর মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে যাচ্ছে। আমরা চাই, ভোটের দিনটি যেন উৎসবের মতো হয়। প্রত্যেকে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন— সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
বিভিন্ন দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বিষয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার কথা বলছে, যা আসলে ভোটারদের প্রলোভনে ফেলার কৌশল। এগুলো বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং ভোট কেনার প্রচেষ্টা। অতীতেও এমন অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। তাই মানুষ এসব কথায় আর আস্থা রাখছে না।
বিজ্ঞাপন
তিনি মনে করেন, শুধু ঘোষণা দিলেই হবে না— বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি মানা হচ্ছে না। অনেক এলাকায় নিয়ম ভেঙে পোস্টার লাগানো হচ্ছে, অথচ তাদের দল নিয়ম মেনে ব্যানার টাঙাতে গেলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কিছু জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিক, যাতে সবাই সমান সুযোগ পায়।
ঢাকা-১১ আসনের নিত্যদিনের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, এলাকায় তীব্র পানি ও গ্যাস সংকট রয়েছে। সকালে গ্যাস চলে গেলে অনেক সময় সারাদিন আর সরবরাহ থাকে না। পানির সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
মাদক সমস্যাকে সবচেয়ে বড় সামাজিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম জানান, প্রকাশ্যেই মাদক বেচাকেনা চলছে, যা তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও কিছু প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি। ঢাকা-১১ এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অভিযান চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
চাঁদাবাজি ও ভূমি দখলের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পরও এসব অনিয়ম বন্ধ হয়নি। আগে যেমন ছিল, এখনো কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী একইভাবে দখল ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার বদলে নিজেদের কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং সংস্কারের পক্ষে তারা কাজ করছেন।
শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটারদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ তাদের পক্ষে রায় দেবে।
এদিনের প্রচারণায় তার সঙ্গে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি ও ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। তারা বিভিন্ন সড়ক ও মহল্লায় হেঁটে হেঁটে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং স্থানীয় সমস্যার কথা শোনেন।








