Logo

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১:৩৬
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে তারেক রহমান: দ্য ইকোনমিস্ট
তারেক রহমান | ফাইল ছবি

বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট তাদের সর্বশেষ বিশ্লেষণে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত সাময়িকীটির সাম্প্রতিক সংখ্যায় বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে সুপরিচিত একটি পরিবারের উত্তরসূরি ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের পর দেশের নেতৃত্বে আসার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রায় দেড় বছর আগে ঘটে যাওয়া এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর। ওই সময় ‘জেনারেশন জেড’-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে, যা হত্যা, দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগে আন্তর্জাতিকভাবেও সমালোচিত ছিল।

দ্য ইকোনমিস্ট মনে করে, গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুলে দেবে।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানকে ঘিরে এই পূর্বাভাস এমন এক সময়ে এলো, যখন এর আগে টাইম ম্যাগাজিন, ব্লুমবার্গসহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও তাকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে রেখেছিল।

সাময়িকীটি গত ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুলেটপ্রুফ বাসে করে রাজধানীতে প্রবেশের সময় বিপুল সংখ্যক সমর্থক রাস্তায় নেমে আসেন। উচ্ছ্বাসের কারণে বাসটি কয়েক মাইল পথ খুব ধীরগতিতে চলতে থাকে, যেন সমর্থকেরা কাছ থেকে তাকে দেখতে পারেন।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেছে সাময়িকীটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের পর দেশে আর কোনো ‘বাস্তব অর্থে গ্রহণযোগ্য’ নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশ নাগরিক কখনো প্রকৃত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইপিএসএসের শাফকাত মুনিরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দুই দশক ধরে ভোটের গুরুত্ব অনুভব করতে পারেননি। তবে বর্তমানে রাজধানীর রাস্তায় রাস্তায় নির্বাচনী পোস্টার ও ব্যানার দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক সক্রিয়তার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এই নির্বাচনই হবে শেষ বড় দায়িত্ব। অধিকাংশ মানুষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই সরকার অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে সংসদের জন্য একটি নতুন উচ্চকক্ষ গঠন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে দ্য ইকোনমিস্ট লিখেছে, দলটি ক্ষমতায় গেলে সংযত শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও শহুরে মধ্যবিত্তদের মধ্যে তাদের উত্থান উদ্বেগ তৈরি করেছে। দলটি এবারের নির্বাচনে কোনো নারী প্রার্থী দেয়নি এবং সংসদে তাদের অতীত অভিজ্ঞতাও সীমিত।

বিজ্ঞাপন

এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই তারেক রহমানের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করে সাময়িকীটি। কারণ জনমত জরিপে তার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এগিয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, বিএনপি দীর্ঘদিন তার মা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। তার আগেও দলটির নেতৃত্বে ছিলেন তার বাবা, যিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং ১৯৮১ সালে নিহত হন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নব্বই ও দুই হাজারের দশকে তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বলা হয়, তারেক রহমান নির্দিষ্ট পরিকল্পনার বিস্তারিত না দিলেও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে উচ্চ আয়ের চাকরির সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি দেশের পানিসংকট মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং প্রতিবছর পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে উপযুক্ত মনে করেন এবং তাকে একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ী হিসেবে দেখেন।

দ্য ইকোনমিস্ট আরও লিখেছে, তারেক রহমানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার অবশ্যই হবে, তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

তার যুক্তি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে—যে সরকার জনগণের জন্য কার্যকর কর্মসূচি দিতে ব্যর্থ হয়, তাদের পতন অনিবার্য। তিনি প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিরোধিতা করে বলেন, প্রতিশোধ সমাজের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না।

প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এখনো অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক।

পর্যবেক্ষকদের মতে, লন্ডন থেকে ফিরে আসা এই রাজনীতিককে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংযত ও পরিণত মনে হচ্ছে।

জেবি/এএস
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD